বিনোদন প্রতিবেদক
দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে এমন অনেক কিছু আছে, যা বছরের পর বছর ধরে এক ধরনের অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো, সিনেমা মুক্তির ঠিক আগে বা মুক্তির দিন জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খানকে খুব একটা জনসমক্ষে দেখা যায় না। নতুন সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ যখন তুঙ্গে, তখনই যেন তিনি নিজেকে এক রহস্যময় আড়ালে সরিয়ে নেন। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া ‘রকস্টার’ সিনেমা ঘিরে যখন আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে, তখন সিনেমাটির পরিচালক আজমান রুশোর একটি মন্তব্য নতুন করে এই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি হাসতে হাসতেই বললেন, ‘ভাইয়া তো সিনেমা রিলিজের আগে গায়েব থাকেন। উনি ফোন-টোন বন্ধ করে মনে হয় ঘুমাচ্ছেন। আমার সাথেও কথা হচ্ছে না।’ মন্তব্যটি রসিকতার ছলে করা হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে বহুদিনের এক অমোঘ বাস্তবতা। শাকিব খানের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, তার বেশিরভাগ সিনেমার ক্ষেত্রেই মুক্তির সময় প্রচারণার প্রধান দায়িত্ব বহন করেন নির্মাতা, প্রযোজক কিংবা সহশিল্পীরা; আর শাকিব খান অনেকটা দূর থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রশ্ন জাগে, ক্যারিয়ারের এই সুবর্ণ সময়ে শাকিব খানের এই অন্তর্ধানের নেপথ্য রহস্য কী? অনেকের মতে, এটি শাকিব খানের একটি সুনিপুণ ব্যক্তিগত কৌশল। দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে তিনি এমন একটি তারকা-ইমেজ সৃষ্টি করেছেন, যেখানে তার উপস্থিতির চেয়ে অনুপস্থিতিই অনেক সময় বেশি আলোচনার জন্ম দেয়। তিনি খুব কম সাক্ষাৎকার দেন, সব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন না, আবার সামাজিক মাধ্যমেও তুলনামূলক ভীষণ সংযত। ফলে তাকে ঘিরে সর্বদাই এক ধরনের তীব্র রহস্যময়তা তৈরি হয়, যা তার তারকাখ্যাতি ও ক্রেজ ধরে রাখতে অনন্য ভূমিকা রাখে। আবার চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকের ধারণা, মুক্তির আগে অতিরিক্ত প্রচারণার চেয়ে শাকিব খান বরাবরই সিনেমার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর বেশি আস্থা রাখেন। দর্শক হলে গিয়ে সিনেমা দেখলেই সেটির প্রকৃত মূল্যায়ন হবে- এমন আত্মবিশ্বাস থেকেই হয়তো তিনি নিজেকে কিছুটা দূরে রাখেন। তবে এই কৌশল সব সময় নির্মাতাদের জন্য খুব একটা স্বস্তির হয় না। বিশেষ করে যখন সিনেমা নিয়ে বিতর্ক বা সমালোচনা শুরু হয়, তখন পরিচালকদেরই একা সামনে এসে জবাবদিহি করতে হয়। ‘রকস্টার’-এর ক্ষেত্রেও সেটিই দেখা গেছে। সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ এর ভিজুয়াল উপস্থাপনা ও ভিন্ন ধরনের গল্প বলার প্রশংসা করছেন, আবার কেউ প্রচলিত বাণিজ্যিক উপাদানের অভাব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন।



