ইদানীং অনেকেরই ঘাড় ও পিঠে ব্যথা দেখা দিচ্ছে। প্রথমে সামান্য ঘাড় ব্যথা দিয়ে অস্বস্তির শুরু, ধীরে ধীরে পিঠে ব্যথা ও টান অনুভব হয়। ক্রমেই মাথা ভার হয়ে আসে। কিন্তু এর কারণ কী?
ফিজিওথেরাপিস্টরা জানিয়েছেন, সমস্যাটা খুব সাধারণ, কিন্তু অবহেলা করলে ভয়াবহ হতে পারে। কারণ, দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপে ঝুঁকে থাকায় দেহভঙ্গি বা ঢ়ড়ংঃঁৎব নষ্ট হয়ে গেছে। এমনটা হলে মানুষ কিছু সমস্যার মধ্য দিয়ে যায়। যেমন-
১) টেক্সট নেক সিনড্রোম, ২) সারভাইক্যাল পেইন, ৩) ফ্রোজেন শোল্ডার ও ৪) মেরুদণ্ডের ডিস্কে সমস্যা। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে ঝুঁকে থাকায় শরীরে সাধারণত যেসব সমস্যা দেখা দেয়, সেগুলো হচ্ছে-১) ঘাড় ব্যথা বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, ২) পিঠ বা কোমর ব্যথা, ৩) কাঁধে টান, ৪) হাত-পায়ে ঝিঁ ঝিঁ বা অবশ ভাব, ৫) চোখের ক্লান্তি, ৬) মাথা ব্যথা, ৭) শরীরে দুর্বলতা, ৮) ঘুমের ব্যাঘাত ও ৯) মুড সুইং।
এক্ষেত্রে যা করতে হবে-১। শরীরের সঠিক অবস্থান : কাজ করার সময় চেয়ার-টেবিলের উচ্চতা ঠিক রাখুন। মোবাইল বা ল্যাপটপ চোখের সমান উচ্চতায় রাখুন। ২। নিয়মিত বিশ্রাম : প্রতি ৩০-৪০ মিনিট কাজের পর ১-২ মিনিট চোখ বন্ধ করুন বা দাঁড়িয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করুন।
৩। নিয়মিত ব্যায়াম : ঘাড়, পিঠ, কাঁধ, কোমর এবং হাত ও পায়ের সহজ স্ট্রেচিং ব্যায়াম করুন। বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম করবেন।৪। গরম বা ঠাণ্ডা সেক : ব্যথা হলে উষ্ণ বা ঠাণ্ডা পানির সেক নিতে পারেন।
৫। পর্যাপ্ত পানি পান ও ঘুম : দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। রাতে যেন পর্যাপ্ত ঘুম হয় সে ব্যাপারে সচেতনতা অবলম্বন করুন।৬। ফিজিওথেরাপি : প্রয়োজন অনুযায়ী আলট্রাসাউন্ড থেরাপি, ম্যানুয়াল থেরাপি বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষ ব্যায়াম করতে পারেন।
৭। মানসিক চাপ হ্রাস : মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান, মেডিটেশন বা নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের ব্রিদিং এক্সারসাইজ করতে পারেন।
এই যুগে মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকা সম্ভব নয়, তবে নিজের যতœ নেয়া সম্পূর্ণ আপনার হাতে। সময় থাকতে সচেতন না হলে সামান্য সমস্যা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।



