চট্টগ্রাম ব্যুরো
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার ঘোষিত ইউনিভার্সেল হেলথ কেয়ার নিশ্চিত করার জন্য আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হবে। বরাদ্দের টাকার সুষ্ঠু ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে সম্মিলিত ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোর স্থান সঙ্কুলান অপ্রতুল ও নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারনে অনেক সময় ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। ফলে দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা সঠিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়। তাই সরকার চিন্তা করছে এ সমস্যা সমাধানে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কাজে লাগানো হবে। এর আওতায় রোগীর চিকিৎসা করবে বেসরকারি হাসপাতাল, বিল পরিশোধ করবে সরকার।
অর্থমন্ত্রী গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিক্যাল কলেজের ১৮তলা নতুন অ্যাকাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
চিকিৎসাসেবায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল রেটিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকার কথা শুনে মন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে তা ধরে রাখা ও ক্রমান্বয়ে আরো উন্নতির পরামর্শ দেন। মেডিক্যাল কলেজ মানহীন হলে তার প্রভাব পুরো জাতিকে বহন করতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিশ্চিতের জন্য কোনো কিছুর সাথে আপস করা যাবে না, ব্যক্তিগত প্রভাব বা রাজনৈতিক তদবিরে কান দেয়া যাবে না। সর্বাগ্রে রোগীদের কল্যাণের কথা চিন্তা করতে হবে।
নতুন ভবনে বিভিন্ন বিভাগ ও সেবার কথা শুনে তিনি বলেন, পার্কিংয়ের পরিমাণ বাড়াতে হবে, ন্যূনতম ২০০টির বেশি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে, নইলে পুরো এলাকা যানজটের কবলে পড়বে। তা ছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ ও হাইজেনিক ক্যাফেটেরিয়া, সুপরিসর অডিটরিয়াম, লাইব্রেরি ও ই-লাইব্রেরি, মাল্টি-মিডিয়া শ্রেণিকক্ষ প্রভৃতির ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাহলে এ হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবায় আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।
হাসপাতালের জন্য এমআরআই মেশিন, সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি, আসন সংখ্যা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবির কথা শুনে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে জনগণের টাকা দুর্নীতিতে অপচয় হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পরিশোধ করতে আমাদের অনেক অর্থ খরচ হয়ে গেছে। তবে আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আশা করছি আগামী দু’বছরের মধ্যে সব খাত ঘুরে দাঁড়াবে। এ হাসপাতালের জন্যও বরাদ্দ বৃদ্ধির সরকারি প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ হাসপাতালে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট তৈরির জন্য ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উপর মন্ত্রী জোর দেন এবং বলেন, ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হলে ছাত্রশিক্ষক অনুপাত ঠিক রাখতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা ও অনুপাত নিশ্চিত না করে আসন বৃদ্ধি করলে তা কোনো কাজে আসবে না।
পরে তিনি বোতাম টিপে নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রসঙ্গত, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন এ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তার প্রচেষ্টায় ২০০৫ সালে বেগম জিয়ার সরকার নামমাত্র মূল্যে এ হাসপাতালের জন্য চার একরের বেশি জমি দান করে।
পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি সৈয়দ মোরশেদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসীম বড়–য়া, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান রানা বক্তৃতা করেন। পরে অর্থমন্ত্রী আগ্রাবাদ মহিলা কলেজে কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ, নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। এখানে বক্তৃতায় তিনি ছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, আইটি-ভিত্তিক শিক্ষা অর্জন করতে হবে, সবার ডিজিটাল এক্সেস থাকতে হবে, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে যুক্ত থাকতে হবে। না হলে সবাই পিছিয়ে পড়বে। কলেজটি জাতীয়করণসহ অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, গতানুগতিক ধারায় না চলে আমাদেরকে পরিবর্তনের ধারায় চলতে হবে। বিনা কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা ও রাখার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর মো: ফজলুল কাদের চৌধুরী, পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি মো: মফিজুল হক ও কলেজ অধ্যক্ষ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।



