বসন্তের শুরুতে ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর : কি করবেন?

Printed Edition

শীত বিদায় নিয়েছে, কিন্তু গরম এখনো সেভাবে পড়েনি। এই যে ‘নাতিশীতোষ্ণ’ আবহাওয়া, এটাই হলো ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির আদর্শ সময়। সকালের দিকে হালকা ঠাণ্ডা আর দুপুরে রোদের তেজ এই খামখেয়ালি আবহাওয়ার সাথে শরীর মানিয়ে নিতে পারছে না। ফলে ঘরে ঘরে কারো জ্বর, কারো টানা সর্দি, আবার কেউ বা খুসখুসে কাশিতে জীবন জেরবার। চিকিৎসকরা বলছেন, এই সময়ে আমাদের করা কিছু ছোট ছোট ভুলই শরীরকে দুর্বল করে দেয় আর তাই সহজে ভাইরাস চেপে বসে।

কি এই ভুলগুলো? হঠাৎ ফ্যান বা এসি চালানো : দুপুরে রোদ দেখে অনেকেই এখন ফ্যান ফুল স্পিডে চালিয়ে দিচ্ছেন বা এসির তাপমাত্রা একদম কমিয়ে দিচ্ছেন। বিজ্ঞান বলছে, শরীরের তাপমাত্রার এই হঠাৎ পরিবর্তন বা ঞযবৎসধষ ঝযড়পশ আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ওসসঁহরঃু) কমিয়ে দেয়। এর ফলে খুব দ্রুত ভাইরাস অ্যাটাক করে।

ঠাণ্ডা পানির নেশা : গরম না পড়লেও রোদে একটু হাঁটলেই অনেকে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি খাচ্ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ঋতু পরিবর্তনের সময় গলার টিস্যুগুলো খুব সংবেদনশীল থাকে। ঠাণ্ডা পানি খেলে শ্বাসনালীর সুরক্ষা কবচ বা ‘মিউকোসিলিয়ারি ক্লিয়ারেন্স’ দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে খুব সহজে ইনফুয়েঞ্জা ভাইরাস শরীরে বাসা বাঁধে।

বাইরের খাবার ও রাস্তার পানি : এই সময়ে পানিবাহিত রোগের প্রকোপও বাড়ে। রাস্তার কাটা ফল ঢাকা না দিয়ে রাখা পানি থেকে টাইফয়েড বা জন্ডিসের ঝুঁকি বাড়ে। ল্যানসেটের বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ঋতু পরিবর্তনের সময় হজম ক্ষমতা কিছুটা কমে যায়, তাই বাইরের তেল-ঝাল খাবার এই সময়ে এড়িয়ে চলাই ভালো।

ভুল পোশাক নির্বাচন : সকালে ঠাণ্ডা লাগছে বলে চাদর বা সোয়েটার পরছেন, কিন্তু দুপুরে ঘেমে যাচ্ছেন। এই ঘাম শরীরে বসে গেলেই বিপত্তি। ঘাম বসে বুকে সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই সময়ে সুতির আরামদায়ক পোশাক পরুন এবং সাথে একটি পাতলা চাদর রাখুন।

পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি পান না করা : ইমিউনিটি ধরে রাখতে দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম অত্যন্ত জরুরি। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে টক্সিন বেরিয়ে যায়, ফলে ভাইরাস সহজেই আক্রমণ করতে পারে না। ইন্টারনেট।