নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং মামলার নোটিশ ও টেন্ডার নম্বর জালিয়াতি সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা রুখতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল। জালিয়াতি ও অনিয়ম রোধে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে পাঁচ দফার একটি জরুরি ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন নীতিমালার কথা জানানো হয়। অবিলম্বে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি চলাকালে গতকাল ২ জুন এনেক্স ভবনের ১৪ নম্বর কোর্টে বেশ কয়েকটি মামলার শুনানির সময় একটি বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। আদালতে দাখিলকৃত মূল অ্যাফিডেভিট (হলফনামা) আবেদনের টেন্ডার নম্বরের সাথে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে প্রেরিত নোটিশের টেন্ডার নম্বরের স্পষ্ট গরমিল দেখা যায়।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট আদালতের নজরে আনা হলে ওই বেঞ্চে তালিকাভুক্ত আরো একাধিক মামলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের জালিয়াতির প্রমাণ মেলে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের কিছু আইনজীবী সহকারী (ক্লার্ক) এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে এই চক্রটি কোনো অনৈতিক সুবিধা বা বিশেষ কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে সুকৌশলে নোটিশ ও টেন্ডার নম্বর জালিয়াতি করে আসছিল।
এ ছাড়াও বেশ কিছু মামলায় দেখা গেছে, মূল পিটিশনে শনাক্তকারী আইনজীবী হিসেবে যিনি স্বাক্ষর করেছেন, তার সাথে মামলার মূল নোটিশে স্বাক্ষরকারী আইনজীবীর নামের বৈপরীত্য রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গুটি কয়েক ব্যক্তির এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সমগ্র আইনজীবী সমাজ এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট সবাইকে গভীর বিব্রতকর ও সমালোচনামূলক পরিস্থিতির মুখে ফেলছে।
এই অশুভ তৎপরতা বন্ধ এবং বিচারপ্রক্রিয়ার শতভাগ স্বচ্ছতা ধরে রাখতে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল নি¤œলিখিত নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন:
১) আইনজীবীর অভিন্নতা: মামলার মূল পিটিশনে শনাক্তকারী আইনজীবী এবং নোটিশে স্বাক্ষরিত আইনজীবী সুনির্দিষ্টভাবে একই বিজ্ঞ আইনজীবী হতে হবে; ২) কঠোর সময়সীমা: কোনো মামলার অ্যাফিডেভিট (হলফনামা) সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নোটিশ জারি বা জমা নিশ্চিত করতে হবে; ৩) টাইপকৃত টেন্ডার নম্বর: অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে জমা দেয়া নোটিশে কোনো হাতে লেখা টেন্ডার নম্বর গ্রহণযোগ্য হবে না; টেন্ডার নম্বরটি অবশ্যই স্পষ্ট অক্ষরে টাইপকৃত হতে হবে; ৪) নথিপত্র সংযুক্তি: অ্যাফিডেভিট সম্পন্ন হওয়ার পর মূল আবেদনপত্রের অনুলিপির (ব্লু কপি) সম্পূর্ণ ফটোকপি এবং সংশ্লিষ্ট ওকালতনমার উভয় পৃষ্ঠার ফটোকপিসহ নোটিশ জমা দিতে হবে; ৫) পূর্ববর্তী মামলার নোটিশ প্রদান: কোনো আদালতে পূর্বে দাখিলকৃত একই মামলা যদি পরবর্তীতে অন্য কোনো আদালতে তালিকাভুক্ত করা হয়, তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নতুন নোটিশ প্রদানের সময় পূর্ববর্তী আদালতে দাখিলকৃত মামলার নোটিশের একটি অনুলিপি (কপি) বাধ্যতামূলকভাবে সংযুক্ত করতে হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নির্দেশনার কোনো একটি শর্ত ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট মামলার নোটিশ গ্রহণ করা হবে না এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ও আইনগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ এবং উচ্চ আদালতের পবিত্রতা রক্ষায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।



