নাটকীয়তার পর শিরোপা পুনরুদ্ধার সেনেগালের

Printed Edition
আফ্রিকান শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের পর ট্রফি হাতে সেনেগালের অধিনায়ক সাদিও মানে উল্লাস করছেন সতীর্থদের কাঁধে চড়ে  : ইন্টারনেট
আফ্রিকান শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের পর ট্রফি হাতে সেনেগালের অধিনায়ক সাদিও মানে উল্লাস করছেন সতীর্থদের কাঁধে চড়ে : ইন্টারনেট

ক্রীড়া ডেস্ক

আফ্রিকান নেশন্স কাপের ফাইনালে গত পরশু গোলশূন্যভাবে শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিট। যোগ করা সময়ে খেলা শুরু হলে ভর করে নাটকীয়তা। সেনেগালের ইদ্রিসা গুয়ের হেড পোস্টে লাগার পর ফিরতি বল হেডেই জালে পাঠান ইসমাইল সার। বল জালে প্রবেশের আগেই আশরাফ হাকিমিকে ধাক্কা দেয়ায় ফাউলের বাঁশি রেফারির। জাল কাঁপালেও গোলবঞ্চিত হতে হয় সেনেগালকে। এরপর আট মিনিট যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে কর্নার পায় মরক্কো। বল উড়ে যাচ্ছিল দূরের পোস্টে, সেখানেই ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিউফের ফাউলের শিকার রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজ। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি জ্যাকস এনদালা।

কয়েক মিনিটে আগে নিজেরা ‘গোলবঞ্চিত’ হয়ে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি হজম- কিছুতেই মানতে পারছিল না সেনেগাল। ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠে বিক্ষিপ্তভাবে ঘোরাফেরা করতে থাকেন খেলোয়াড়রা। ঘটনা যাচাইয়ে মনিটরে পর্যালোচনা করে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানান তিনি। যা নিয়ে প্রবল আপত্তির মুখে ক্ষুব্ধ সেনেগালের কোচ পেপ থিয়াও খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে চলে আসতে ইশারা করলে টানেল ধরে চলেও যায় তারা। মাঠে শুধু রয়ে গেলেন সাদিও মানে। আল নাসর ফরোয়ার্ড বুঝে উঠতে পারছিলেন না, কী করবেন? সময় নিয়ে দলকে বুঝিয়ে ১৭ মিনিট পর খেলোয়াড়দের মাঠে ফেরান তিনি। পেনাল্টি শট নিতে আসেন দিয়াজ। কিন্তু তার নেয়া দুর্বল পানেঙ্কা শট ঠেকিয়ে দেন সেনেগাল গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডি। এরপর অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই চমৎকার গোলে এগিয়ে যায় সেনেগাল। ৯৪ মিনিটে ইদ্রিসা গুয়ের থ্রু বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে ব্যবধান গড়ে দেন পেপ গুয়ে।

রাবাতে ফাইনালে মাঠে নামার আগে দুই দলই ছিল অপরাজিত। তবে পারফরম্যান্স বিবেচনায় ও ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা ও প্রেরণা থাকায় কিছুটা এগিয়ে ছিল মরক্কো। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরু হতে বদলে যেতে থাকে পেছনের ভাবনা। দুই পক্ষের আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। তবে নাটকীয়তায় ভরপুর ফাইনালে শেষ হাসি হাসে সেনেগাল।

চার বছর আগে দেশকে প্রথম মহাদেশ সেরার শিরোপার স্বাদ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন সাদিও মানে। হয়েছিলেন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়। এবারো দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আফকন মুকুট পুনরুদ্ধারে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়ে হলেন টুর্নামেন্ট সেরা। এবার ফুটবলের বিচারেই নয়, নেতিবাচক সব ঘটনায় ভরা ফাইনালে দলের সম্মান পুনরুদ্ধারেও সত্যিকারের নেতা হয়ে উঠলেন সাবেক লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক এই ফরোয়ার্ড। আফকনে পাঁচ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড দিয়াজ।

সেমিফাইনালে জয়সূচক গোলসহ আসরে দুইবার জালের দেখা পান সাদিও মানে। তাকে আর দেখা যাবে না এই মঞ্চে। ম্যাচ শেষে আবার সেটা নিশ্চিত করেন আল নাসর ফরোয়ার্ড।

তিনি বলেন, ‘এটাই আমার শেষ আফ্রিকান নেশন্স কাপ কি না? হ্যাঁ, আগেই আমি বলেছি, এখানেই আমি থামব। আমার মনে হয়, পরবর্তী প্রজন্ম প্রস্তুত, তারা পরের দায়িত্ব নেবে, আমি দ্বাদশ খেলোয়াড় (সমর্থক) হবো।’