মোরেলগঞ্জে ডায়রিয়ার প্রকোপ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সঙ্কট

Printed Edition

মিজানুর রহমান মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে তীব্র তাপদাহে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে শিশু ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। তবে হাসপাতালের ভবন সঙ্কটের কারণে রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মাত্র ১৯ শয্যার জন্য নির্ধারিত ভবনে বর্তমানে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চলায় বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে ফ্লোর ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মোরেলগঞ্জের ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় চার লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা এই হাসপাতালটি। গত ছয় দিনে এখানে ১৮ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বদনীভাঙ্গার সুমাইয়া আক্তার (২৫), ছোট বাদুরার সাবিনা ইয়াসমিন (২৬), সোনাখালীর ফাহিম খান (৩), পঞ্চকরণের সুমাইয়া (২১), সানকিভাঙ্গার আব্দুর রশিদ (৬০) ও শুভরাজ কাঠির মুকুল বেগমসহ (৭৫) আরো অনেকে। তীব্র গরমে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটকে এই ডায়রিয়া বিস্তারের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শয্যা সঙ্কটের কারণে মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডের বারান্দায় রোগীরা মানবেতর অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। পেটে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়া কামরুল ইসলাম জানান, দুই দিন ধরে হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে আছেন, শয্যা মিলবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। একই চিত্র ডায়রিয়া আক্রান্ত রেশমা ও আকলিমার ক্ষেত্রেও। তারা জানান, চিকিৎসা পেলেও আবাসন সঙ্কটে তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

হাসপাতালের এই সঙ্কটের মূলে রয়েছে ঝুলে থাকা নির্মাণকাজ। সংশ্লিষ্টরা জানান, ৩১ শয্যার পুরনো ভবনটি পুনর্নির্মাণের কাজ ২০২৩ সালে শুরু হলেও ঠিকাদারের গাফিলতিতে ২০২৪ সালে এসে তা থমকে যায়। গত দুই বছর ধরে বরাদ্দ না থাকায় ভবনটির কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে পর্যাপ্ত রুম ও বেড থাকা সত্ত্বেও অবকাঠামোর অভাবে রোগীরা যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না।

এ দিকে ডায়রিয়ার পাশাপাশি হামের প্রকোপ রোধে টিকা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতালের এমটিপিআই দীপক কুমার রায় জানান, ইতোমধ্যে বহির্বিভাগে দুইজন হাম আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের ভিটামিনে ক্যাপসুল দেয়া হয়েছে এবং বর্তমানে হাসপাতালে ১১ শ’ ডোজ হামের টিকা মজুদ রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: কামাল হোসেন মুফতি বলেন, তীব্র গরমে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা সাধ্যমতো সেবা দিচ্ছি। তবে ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় আবাসন সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভবনের কাজ শেষ হলে রোগীদের ভোগান্তি লাঘব হবে।