চট্টগ্রাম ব্যুরো
দুবাই থেকে এক প্রবাসী জানালেন, দেশে থাকা তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আবুধাবি থেকে আরেকজন অভিযোগ করলেন জমিজমা নিয়ে হামলা ও হয়রানির কথা। কাতার থেকে কেউ বললেন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কথা। একই দিনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ তুলে ধরলেন চিকিৎসা, শিক্ষা, পুনর্বাসন ও জীবিকার সঙ্কটের কথা। দেশ ও প্রবাস- দুই প্রান্তের মানুষের এসব অভিযোগ ও আবেদন সরাসরি শুনলেন মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
গতকাল বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত দুই পৃথক গণশুনানিতে এমন চিত্র দেখা যায়। দিনের প্রথম ভাগে অনুষ্ঠিত হয় ‘প্রবাসী গণশুনানি’ এবং পরে সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত গণশুনানি। দুই পর্ব মিলিয়ে প্রশাসনের কাছে পৌঁছায় প্রবাসীদের সম্পত্তি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ থেকে শুরু করে অসুস্থ, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের নানা আবেদন।
প্রথমে অনুষ্ঠিত প্রবাসী গণশুনানিতে চারজন প্রবাসী জুম প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন। পাশাপাশি বর্তমানে দেশে অবস্থানরত দু’জন প্রবাসী সশরীরে অংশ নিয়ে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
দুবাইপ্রবাসী আবুল খালেক অভিযোগ করেন, পটিয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা ছিনতাই, নির্যাতন ও হুমকির শিকার হচ্ছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় তার স্ত্রী আদালতে মামলা করেছেন। আবুধাবিপ্রবাসী রাজু মুহুরী বলেন, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসাও নিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি ও সালিস বৈঠকের কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।
দুবাইপ্রবাসী মোহাম্মদ হারুন বোয়ালখালীতে তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ করেন। আবুধাবিপ্রবাসী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হাটহাজারীতে তার সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা, নির্মাণকাজে বাধা এবং চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্য দিকে আবুধাবিপ্রবাসী মোরশেদ আলম বিদেশে উপার্জিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিদেশের আদালত অর্থ ফেরতের নির্দেশ দিলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশে চলে আসায় তিনি এখনো টাকা ফেরত পাননি। কাতারপ্রবাসী নুরুল হাকিম তার এক আত্মীয়ের বিরুদ্ধে প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে প্রশাসনের সহযোগিতা চান।
প্রতিটি অভিযোগ শুনে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দফতরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। অভিযোগগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণেরও নির্দেশনা দেয়া হয়।



