জাপানের সামরিক বিস্তার নিয়ে চীনের উদ্বেগ

Printed Edition

আনাদোলু

আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ‘মুক্ত ও অবাধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয়’ কৌশলের আড়ালে জাপান সামরিক বিস্তার ঘটাচ্ছে বলে শনিবার অভিযোগ করেছে চীন। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে যে, টোকিওর এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতে জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়া ও ভিয়েতনাম সফর নিয়ে মুখ খুলেছেন চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং বিন। গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি টোকিওর বিরুদ্ধে জোটগত সঙ্ঘাত উসকে দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন তথাকথিত মুক্ত ও অবাধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার অজুহাতে জাপানের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষ জোটগত সঙ্ঘাত উসকে দিচ্ছে এবং ছোট ছোট চক্র তৈরি করছে। তিনি আরো যোগ করেন যে, এটি অন্য দেশগুলোর কৌশলগত নিরাপত্তা ও স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ছাড়া এটি জাপানের সামরিক উন্নয়নের ওপর থাকা বিধিনিষেধ থেকে বেরিয়ে আসার একটি বাহানা মাত্র যা আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি।

জাপানের যুদ্ধোত্তর শান্তিবাদী সংবিধান সংশোধনের আহ্বানেরও সমালোচনা করেছেন জিয়াং। তিনি বলেন এ ধরনের পদক্ষেপ গোপন সামরিক প্রস্তুতি থেকে প্রকাশ্য যুদ্ধের প্রস্তুতির দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, জাপানে নব্য-সামরিকবাদের উত্থান এশিয়ার শান্তির জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনা এই কর্মকর্তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে জানান যে, এ বছর টোকিও ট্রায়ালের ৮০তম বার্ষিকী পালন করা হচ্ছে। এই বিচারের মাধ্যমেই যুদ্ধের পর জাপানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয়েছিল। তিনি জাপানের কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন আগ্রাসনকে খাটো করে দেখা এবং ইয়াসুকুনি মাজারে সম্মান জানানো দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের মহিমান্বিত করার অভিযোগ তোলেন।

চীন জাপানকে ইতিহাসের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেশী এশীয় দেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছে। চীনের এই বিবৃতির বিষয়ে টোকিও থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে জিয়াং বিভিন্ন দেশের প্রতি জোট গঠন এবং পক্ষপাতের রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। জাপান ও ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বৈঠকের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মুখপাত্র বলেন জাপান ও ফিলিপাইনের নির্দিষ্ট কিছু রাজনীতিক সমুদ্রসংক্রান্ত বিষয়ে মিথ্যা বয়ান ছড়াচ্ছেন এবং চীনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন। চীন এই বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ ও কঠোর বিরোধিতা প্রকাশ করছে।