নয়া দিগন্ত ডেস্ক
২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও থামছে না ইসরাইলি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী অভিযান। গতকাল শনিবার গাজার পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে এক ভয়াবহ বিমান হামলায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একই সাথে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও ইসরাইলি সমাজে ক্রমবর্ধমান চরমপন্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বনেতা ও ধর্মীয় প্রতিনিধিরা।
আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, শনিবার আল-শাতি শরণার্থী শিবিরের আল-আধাম পরিবারের একটি একতলা বাড়িতে কোনো প্ররোচনা ছাড়াই বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। হামলার আগে বাসিন্দাদের ফোন করে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হলেও বিস্ফোরণের ভয়াবহতায় আশপাশের ৫০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একটি শিশুসহ অন্তত ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের গাজার আল-শিফা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সাবাহ আল-ফার আক্ষেপ করে বলেন, মুহূর্তের মধ্যে আমাদের সাজানো সংসার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো। এখন আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। গাজার নাগরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ এই ঘটনাকে বেসামরিক এলাকায় ইচ্ছাকৃত হামলা হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চেয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে চলমান এই যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে।
গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও দমন-পীড়ন চরমে পৌঁছেছে। শনিবার নাবলুস শহরে অভিযান চালিয়ে দুই সাবেক বন্দিসহ তিন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থার (পিএলও) মতে, কেবল গত এপ্রিল মাসেই ফিলিস্তিনিদের ওপর ৫৪০টি হামলা চালিয়েছে কট্টরপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা। রামাল্লাহ ও হেবরন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের গাড়িতে আগুন দেয়া, কৃষকদের মারধর এবং ফসলি জমি ধ্বংসের মতো ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি জেনিনে এক ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের মৃত সন্তানের লাশ কবর থেকে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য করার মতো অমানবিক ঘটনাও ঘটেছে।
জেরুসালেমের লাতিন প্যাট্রিয়ার্ক কার্ডিনাল পিয়েরবাত্তিস্তা পিৎসাবাল্লা এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলি সমাজের ভেতরে ছড়িয়ে পড়া ‘অসুস্থ ঘৃণার বীজ’ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও সামরিক শক্তির অন্ধ ব্যবহার সাধারণ ইসরাইলিদের মধ্যে অ-ইহুদি ও আরবদের প্রতি অবজ্ঞা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ধর্মের নামে এই সহিংসতাকে তিনি ‘সবচেয়ে বড় পাপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সংলাপের পরিবর্তে ক্ষমতার আস্ফালন পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।



