নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ হরতালে গ্রেফতার এবং পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ১২ মার্চ থেকে তিন দিনব্যাপী ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন করা হয়। অন্যদিকে ১১ মার্চের হরতাল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আশাতীত সফলতা লাভ করে। চট্টগ্রামেও কড়া হরতাল পালিত হয়।
হরতালের দিন ঢাকা হাইকোর্ট গেটে, রমনা ডাকঘরের সামনে এবং সচিবালয়ের এক ও দুই নম্বর গেটে ছাত্ররা পিকেটিং শুরু করে সকাল থেকেই। সচিবালয়ে প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ কাঁটাতারের বেড়া দেয়। কিন্তু পিকেটিংয়ের এক পর্যায়ে ছাত্ররা কাঁটাতারের বেড়া ভেদ করে সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় পুলিশ সচিবালয় থেকে ছাত্রদের বের করে দেয়ার জন্য ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। বন্দুকের ফাঁকা আওয়াজও করে পুলিশ। পূর্ব পাকিস্তান সচিবালয় শেষ পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে কয়েকশ’ ছাত্র-জনতা আহত হয় এ দিনের হরতালে। ৬৯ জনকে জেলে নেয়া হয়। গ্রেফতারকৃত অনেককে সাভার ও জয়দেবপুর নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
১১ মার্চ হরতালের সময় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছিলেন- অলি আহাদ, শামসুল হক, অধ্যাপক গোলাম আযম, কাজী গোলাম মাহবুব, শওকাত আলী, আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী, রণেশ দাশগুপ্ত প্রমুখ। পুলিশের লাঠিপেটায় এদিন প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ও মোহাম্মদ তোয়াহাসহ আরো অনেকে আহত হন।
এদিকে ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন প্রবল রূপ ধারণ করার প্রেক্ষাপটে তমদ্দুন মজলিস রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ সম্প্রাসরণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পুনর্গঠন করে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। এতে তমদ্দুন মজলিস ছাড়াও বাইরে থেকে প্রতিনিধি সংগ্রহ করা হয়। গণ আজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক যুবলীগ, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল থেকে দুইজন করে প্রতিনিধি সংগ্রাম পরিষদে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।
দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদে অন্তর্ভূক্ত ছিলেন- মোহাম্মদ শামসুল আলম, প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম, এ এস এম নূরুল হক ভূঁইয়া, ফরিদ আহমদ, অলি আহাদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, নঈম উদ্দিন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, আজিজ আহমেদ, আখলাকুর রহমান, আবদুল মতিন খান, আবুল খায়ের, আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী প্রমুখ।


