সিট দেয়ার মালিক আল্লাহ : মির্জা আব্বাস

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, জনগণের ভোটই ক্ষমতার একমাত্র উৎস। কোনো দল বা গোষ্ঠী কাউকে সিট দেয়ার মালিক নয়; আল্লাহ ও জনগণই একমাত্র সিদ্ধান্তকারী।

গতকাল রোববার মালিবাগ, মমিনবাগ এবং শাহজাহানপুরে ধানের শীষে ভোট চেয়ে গণসংযোগকালে গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন। এ ছাড়াও শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি মৈত্রী সঙ্ঘ মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণ করেন। রাতে তিনি শাহবাগ আনন্দবাজার মসজিদে নামাজ আদায় ও আশপাশে গণসংযোগ করবেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, এলাকার জনগণ যেভাবে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়েছিলেন, আজও তারা আমার ও আমার দলের কার্যক্রম বিবেচনা করে আবারো ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন ইনশা আল্লাহ। তিনি বলেন, জামায়াতের আমির সম্প্রতি ফ্যামিলি কার্ড ও কর্মসংস্থান নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তারা বলছেন বেকার ভাতা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। বিষয়টি জনগণই মূল্যায়ন করবে।

এক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হলে আবার বিএনপিতে ফিরবেন এ প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।

জামায়াতের এক প্রার্থী বলেছেন ঢাকার সব আসন তারা জয়ী হবে, একটাও দিবো না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, একজন প্রার্থী বলেছেন ঢাকা শহরে তারা আমাদের কোনো সিট দেবে না। আমার প্রশ্ন আসন দেয়ার মালিক তারা কে? আসন দেয়ার মালিক আল্লাহ ও জনগণ। জনগণের ওপরে কথা বলা স্বেচ্ছাচারিতা ও অগণতান্ত্রিক আচরণ। তারা এসব বলার শক্তি পায় কোথায়? আমারতো এখন মনে হচ্ছে একটি বিশেষ শক্তি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে কিছু করার চেষ্টা করছে, যা জনগণ ইনশা আল্লাহ প্রতিহত করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাঁদাবাজি নিয়ে ডকুমেন্টারি দেখানো হচ্ছে সাংবাদিকদের আর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একজন মানুষকে ঘায়েল করতে যেসব অস্ত্র দরকার তারা সব ব্যবহার করছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে মিথ্যা ডকুমেন্টারি বানানো হচ্ছে, বট বাহিনী দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ভরিয়ে ফেলা হয়েছে। এ সবের কোনো সত্যতা নেই। এ শ্রেণীর লোকেরা জাতির সামনে মিথ্যা বলে। আমরা তাদের ৭১, ৮৬ সালে দেখেছি। তারা জাতির জন্য কখনো উপকারী নয়।

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি চাই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হোক। কিন্তু কিছু দলের কথাবার্তা ও সরকারের একটি মহলের আচরণে মনে হচ্ছে ‘ইজ সামথিং রং, কুছ কালা হ্যায়’। তবে বাংলাদেশের জনগণ সব সময় সচেতন ও প্রতিবাদী। তিনি বলেন, ’৭১ সালে খালি পায়ে লুঙ্গি পরে জনগণ পাকবাহিনীকে পরাজিত করেছে। আমরা আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করেছি, এরশাদকে প্রতিহত করেছি, এবারো সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত হবে ইনশা আল্লাহ।

এলাকার সমস্যা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, ১৭ বছরে আমার এলাকাকে শেষ করে দেয়া হয়েছে। মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস এ এলাকা ধ্বংস করেছে। এ তিনটি থেকে এলাকাকে রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন,আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। আমি কাজ করছি, বাকিটা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।