এম রইচ উদ্দিন পোরশা (নওগাঁ)
চলতি রবি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় নওগাঁর পোরশায় গমের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর গমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে গম চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল চার হাজার ৮২০ হেক্টর। কিন্তু গম চাষ হয়েছে চার হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে।
তুলনামূলকভাবে গত বছরের চেয়ে এবার ২৮৫ হেক্টর বেশি জমিতে গম চাষ হয়েছে। উন্নত জাতের গম ডাব্লিউএমআরআই-২, বারী-৩০, ৩২ ও ৩৩ চাষ করেছেন কৃষকরা। গম চাষে পানি কম লাগে এবং শ্রমিক খরচ কম হওয়ায় লাভ বেশি হয়। আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে গমেরও নতুন জাত উদ্ভাবন হয়েছে। ফলে নতুন জাতের গম চাষে কৃষকরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এতে ফলনও ভালো হয় বলে তারা বলছেন। চলতি মৌসুমে কৃষকরা আশা করছেন বাজারে দাম ভালো থাকলে আগামীতে গমের চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে।
উপজেলার ছাওড় ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষ্মীপুুর ঝর্ণা গ্রামের গমচাষি ইসমাইল হোসেন জানান, তিনি এবার ১০০ বিঘা এবং রনি আহম্মেদ জানান সাত বিঘা জমিতে উন্নত জাতের গমের চাষ করেছেন। গম চাষে বিঘাপ্রতি প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ৫০০ থেকে সাত হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া গম চাষে বিশেষ কোনো শ্রমিক খরচ নেই। বীজ বপন থেকে গম উঠানো পর্যন্ত দুইবার পানি সেচ দিলেই হয়। গম ভালো হলে হেক্টরপ্রতি ৪.২ মেট্রিক টন গমের ফলন হবে এবং দামও ভালো পাবেন বলে তারা আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মামুনুর রশিদ জানান, কৃষি অফিস থেকে কম পানিতে গম চাষের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দিন-দিন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। পানির সমস্যার কারণে কম পানি সেচের মাধ্যমে গম চাষাবাদের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রণোদনা, প্রদর্শনী ও বীজ সহায়তার আওতায় কৃষি অফিস থেকে গম চাষের জন্য কৃষকদের মধ্যে উন্নত জাতের গমের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।



