বিশেষ সংবাদদাতা
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সামনে অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় আসছে। এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে সরকারকে সফল করতে এবং দলের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে তিনি নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
গতকাল রোববার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সবাইকে বলতে চাই, আমাদের সামনে একটি অত্যন্ত কঠিন সময়। একই সাথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ও আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। যদি আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং সময়টিকে হালকাভাবে পার হতে দিই, তবে তা বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনবে।’
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই ক্ষতি কোনো ব্যক্তির হবে না, বরং তা হবে সমগ্র দেশ এবং আগামী প্রজন্মের। তিনি আরো বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই মিলে শহীদ জিয়া যেভাবে চেয়েছিলেন, সেই অনুযায়ী দেশগঠনে কাজ করি এবং তার দেখানো পথেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই। আমাদের সেই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই দেশ পরিচালনা করতে হবে।’
‘ইশতেহার এখন জনগণের সম্পদ’
তারেক রহমান বলেন, বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে
দেশের মানুষ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছে। ফলে এটি এখন সরকারের দায়িত্ব যে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রশাসন একটি সুনির্দিষ্ট আদর্শ, রূপরেখা ও ইশতেহার সম্পন্ন রাজনৈতিক সরকার। নির্বাচনের আগে বিএনপি তাদের পরিকল্পনা জনগণের সামনে পেশ করেছিল এবং ভোটাররা দলকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সেই পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এটি ছিল বিএনপির ইশতেহার। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলের পর এটি সেই জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে, যারা এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এখন এটি বাস্তবায়ন করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।’
সরকারের একার পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের একক প্রচেষ্টায় সরকারি কর্মসূচি সফল করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ২১৪ জন সংসদ সদস্য এবং আমি নিজেসহ ৫০ জন মন্ত্রিসভার সদস্য শুধুমাত্র আমাদের নিজেদের প্রচেষ্টায় এই কর্মসূচিগুলো সফল করতে পারব না। আমাদের আপনাদের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার তখনই সফল হতে পারে, যখন দলের তৃণমূল কর্মীরা প্রতিটি ইতিবাচক উদ্যোগকে সমর্থন করবে এবং মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।’
জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ইশতেহারে উল্লিখিত অনেক নীতিই সাবেক রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ থেকে অনুপ্রাণিত। এর মধ্যে জিয়ার খালখনন কর্মসূচির অনুরূপ পরিকল্পনা, শিক্ষার সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির নানা পদক্ষেপ রয়েছে। এ ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে।
দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি
নির্বাচনী লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তবে সরকার গঠনের পর তাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। তিনি বলেন, ‘আমাদের কঠোর পরিশ্রম অব্যাহত রাখতে হবে। ঠিক যেভাবে আমরা নির্বাচনে সফল হয়েছি, একইভাবে আমাদের লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও সফল হতে হবে। তবেই আমরা জনগণের চোখে একটি সত্যিকারের সফল সরকার হিসেবে গণ্য হবো।’
অনেকে সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী না হওয়ায় সরাসরি ভূমিকা নেই বলে মনে করতে পারেন এমন ধারণার জবাবে তিনি বলেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, রাজনৈতিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং দলকে শক্তিশালী রাখাই সরকারের সাফল্যে বড় অবদান। তিনি নেতাকর্মীদের জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে এই নতুন শপথ নেয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন উভয় সঙ্কটকালেই জিয়াউর রহমান দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের সূচনা করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ছিলেন একটি লাইটহাউজ বা আলোকবর্তিকার মতো। তিনি প্রতিটি খাতে কাজ করেছেন এবং অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছেন। তিনি একজন কিংবদন্তি নেতা ছিলেন।’ তিনি দলীয় কর্মীদের জিয়ার জীবন ও কর্ম থেকে অনুপ্রেরণা নেয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ। এ ছাড়া অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সভা শুরুর আগে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত এবং শহীদ জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়। এ ছাড়া দলের প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সেনানিবাসে অফিসার ও সৈনিকদের এক প্রীতিভোজে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে ধীরে ধীরে কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ আয়োজিত এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক। পরে দুপুরে তিনি ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার, জেসিও এবং সাধারণ জওয়ানদের সাথে প্রীতিভোজে অংশ নেন।
প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে একটা সুন্দর জায়গায় দেখতে চাই। চেষ্টা করছি, পর্যায়ক্রমে সবার জন্য দেশ গড়তে। যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে আমরা কাক্সিক্ষত দেশ গড়তে পারব। আমরা যাতে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে পারি, সেটিই চাওয়া।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নত পেশাদার মান, দায়িত্ববোধ এবং দুর্যোগ মোকাবেলাসহ দেশের যেকোনো প্রয়োজনে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ঐতিহ্য আমাকে গর্বিত করে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় রাষ্ট্রের আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
তিনি আরো বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলা থেকে শুরু করে জাতীয় যেকোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর অবদান দেশের মানুষের কাছে গভীরভাবে মূল্যায়িত। আশা করি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা, পেশাদারত্ব ও দেশপ্রেম নিয়ে জাতির সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।’
প্রীতিভোজ শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সেনাসদস্যদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে সেনা মেসে অবস্থানরত সৈনিকদের জীবনযাপনের খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেনা মেস চত্বরে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এছাড়া সেনা মেসের মসজিদে জোহরের নামাজ আদায়ের পর উপস্থিত সেনাকর্মকর্তা ও সেনা সদস্যদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা সেনানিবাসে তাঁর শৈশবকালের স্মৃতি রোমন্থন করেন।
ঢাকার ১৬টি স্থানে খাবার ও ত্রাণ বিতরণ তারেক রহমানের
নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধায় পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গত শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে সেখানে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।
এদিন বিকেলে রাজধানীর জুরাইনে রেলগেট এলাকায় খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নগরবাসীকে ঢাকার ময়লা-আবর্জনা অপসারণে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘টিভির পর্দায় যখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট দেখেন, তখন একবারও মনে হয় না, আমাদের রাস্তাঘাট এত নোংরা কেন? আমার কিন্তু হিংসা হয় যে বিদেশের রাস্তাঘাট এত পরিষ্কার; দেশেরগুলো কেন নয়? বিদেশে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী যেমন পরিষ্কার করে, তেমনি সে দেশের জনগণও যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে না।
এদিন ঢাকার আরো ১৫টি স্পটে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর টিঅ্যান্ডটি কলেজ মাঠে তার এ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর টিঅ্যান্ডটি কলেজ মাঠ, শ্যামলী স্কয়ার, সরকারি বাঙলা কলেজ, আয়ুর্বেদী কলেজের উল্টো পাশে, পল্লবী মেট্রোস্টেশন, ইসিবি চত্বর, কুডিল বিশ্বরোড বাসস্ট্যান্ড, ফুজি ট্রেড সেন্টারে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আয়োজিত বস্ত্র ও খাবার কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
অপরদিকে, মালিবাগের তালতলার জোড় পুকুর খেলার মাঠ, শাহজাহানপুরে মির্জা আব্বাসের বাসভবনের সামনে, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে, বাংলাবাজারে যুবদল কার্যালয়ের সামনে, ধোলাইখাল লিংক রোড, শহীদ ফারুক সড়কে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এবং ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডের বাসস্ট্যান্ডের সামনে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সবশেষ বিকেলে ধানমন্ডি এলাকায় দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করেন।
নয়াপল্টনের পার্টির অফিসের সামনে ত্রাণ ও খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রূহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারবর্গ, বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, মেজ বোন সেলিমা ইসলামসহ আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা, এসএসএফ ও পিজিআর সদস্যরা অংশ নেন। এই বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন।
জিয়াউর রহমানের সমাধিতে নেতাকর্মীদের ঢল
জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে জিয়া উদ্যানে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকাল ১০টা থেকেই জিয়া উদ্যানের চারপাশে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, ড্যাব, এ্যাব, ওলামা দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
দিবসটি উপলক্ষে ভোরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়গুলোয় দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। একই সাথে জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
চট্টগ্রামে ঈদুল আজহা পালিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে ত্যাগের মহিমায় পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বৃহস্পতিবার নগরের জমিয়াতুল ফালাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় শহরের প্রধান জামাত। এতে শত শত মুসল্লি অংশ নেয়। নামাজ শেষে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করেন নগরবাসী।
জামাতে ইমামতি করেন জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদের খতিব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল কাদেরী। দুই রাকাত ঈদের নামাজ শেষে তিনি খুতবা দেন।
একই জায়গায় ঈদের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়। এতে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমাদুল হক। জমিয়াতুল ফালাহ ময়দান ছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরীর ৯টি মসজিদে পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, জেলা প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে সকাল ৮টায় আরেকটি বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমামতি করেন অধ্যক্ষ আল্লামা ড. সাইয়েদ আবু নোমান।
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যাশা রংপুরে
রংপুর ব্যুরো জানায়, ঈদ জামাতে অংশগ্রহণ শেষে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, মাদক, গুপ্ত ও ফ্যাসিবাদ মুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন রংপুরের মুসল্লিরা। বৃহস্পতিবার রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত। বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা বায়েজিদ হোসাইন এতে ইমামতি করেন। নামাজে অংশ নেন রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলাল, সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী এবং সাধারণ মুসল্লিরা।
নামাজ শেষে দোয়ায় অংশ নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অন্তত ২০ হাজার মুসল্লি।
নামাজ ও মোনাজাত শেষে রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, ‘ঈদ উল আজহা উপলক্ষে রংপুরবাসী ও রংপুর সদরের তিন আসনের সবাইকে আন্তরিক ঈদ মোবারক জানাচ্ছি। সবাই সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করবেন এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। আর পাশাপাশি আজকে যে এই ঈদের খুশি বা আমাদের খুশি নষ্ট হচ্ছে যে কারণে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, ধর্ষণের বিরুদ্ধে আমরা সবাই সজাগ হই। আমাদের প্রশাসন যেন এর উপরে শক্ত পদক্ষেপ নেয়। সবাই একটা বৈষম্যহীন সুন্দর রংপুর গড়ার জন্য সবাই এগিয়ে আসি।
বগুড়া অফিস জানায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপির আয়োজনে শনিবার বগুড়ায় নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকালে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো: রেজাউল করিম বাদশা। এই কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), বগুড়া জেলা ও মহানগর শাখা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাহালু-নন্দীগ্রাম আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন, ড্যাব নেতা ও বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা: মওদুদ আলমগীর পাভেল, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চান, ড্যাব জেলা সভাপতি অধ্যাপক ডা: শাহ মো: শাহজাহান আলী, সাধারণ সম্পাদক ডা: ইউনুস আলী, ড্যাব নেতা অধ্যাপক ডা: আজফারুল হাবিব রোজ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: ওয়াদুদুল হক তরফদার নাহিদ, জেলা সিভিল সার্জন ডা: খুরশীদ আলম, সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল।
খুলনা ব্যুরো জানায়, জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশন এবং বিএনপি আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করে।
শনিবার সকালে নগর ভবনের নিচতলায় কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশন সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান এবং বিশেষ আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল মান্নান। কেসিসির সচিব মো: রেজা রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খুলনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, কেসিসি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহা, এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হক প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
এ ছাড়া শনিবার নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম, বেগম রেহানা, সাদিকুল ইসলাম সাদী, হাসানুর রশীদ চৌধুরী মিরাজ ও চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, শেখ আব্দুর রশিদ, কে এম আশরাফুল আলম নান্নু, সুলতান মাহামুদ, কে এম হুমায়ূন কবীর, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, মুর্শিদ কামাল, অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আলী ও কাজী মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে শহীদ জিয়াউর রহমানের রূহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
ফেনী অফিস জানায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু এমপি বলেছেন,জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রহীন সমাজে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রেখেছেন। তিনি কেবল স্বাধীনতা ঘোষণাই করেননি, নিজে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। এবং এ দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়েছেন। তিনি ছিলেন এ দেশের উন্নয়নের রূপকার। দেশের জন্য তার অবদান বলে শেষ করা যাবে না। তাকে নির্মমভাবে শহীদ করার পর বেগম খালেদা জিয়া দেশের উন্নয়নের হাল ধরেছেন। তার ইন্তেকালের পর জনগণ আবার বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার পিতা মাতার মতোই দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
রোববার বিকেলে জেলার সোনাগাজী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সোনাগাজী পৌর মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলুর সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব সৈয়দ আলম ভূঞার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার ও সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল, জেলা কৃষক দল সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন খোকন, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস মিতা, জেলা ছাত্রদল সভাপতি সালাহ উদ্দিন মামুন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞা, নবাবপুর ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এ বি এস মারুফ প্রমুখ।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, যথাযোগ্য মর্যাদায় রাজশাহীতে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে মালোপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে কালো ব্যাজ ধারণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ইশা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা, সহ-সভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, মুক্তার হোসেন, জয়নাল আবেদীন শিবলীসহ বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
নোয়াখালী অফিস জানায়, নোয়াখালীতে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়। শনিবার বিকেলে মাইজদী রড় মসজিদে দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: শাহাজাহান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবদু রহিম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহাবুব আলমগীর আলো, সদস্যসচিব হারুনুর রশিদ আজাদ প্রমুখ।
এ দিকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি
জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত হয়। শনিবার নোবিপ্রবি কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও নোবিপ্রবি সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সাদা দলের সাধারণ স¤পাদক অধ্যাপক ড. মো: জাহাঙ্গীর সরকার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও সাদা দলের সাংগঠনিক স¤পাদক অধ্যাপক ড. মো: আবদুল কাইয়ুম মাসুদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
রংপুর ব্যুরো জানায়, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতান্ত্রিক নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিএনপি কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতারা।
শনিবার রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির পৃথক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন তার। দুপুরে নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়ে আলোচানসভার আয়োজন করে জেলা বিএনপি। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম।
অন্য দিকে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে মহানগর বিএনপি। সেখানে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ড. এম শওকাত আলী প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। যোগ দেন স্থানীয় সংরক্ষিত আসনের এমপি অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, সিটি প্রশাসক ও মহানগর সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন। পরে নগরীর বিভিন্নস্থানে স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, ছাত্রদলের উদ্যোগে দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। এ ছাড়াও মসজিদে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত ও মন্দির প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে উন্নত বিশ্বের সাথে বাংলাদেশ এগিয়ে যেত।’ শনিবার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ময়মনসিংহের নান্দাইলে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি একথা বলেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশের জন্য আশীর্বাদ। আমরা তারই পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবার আগে বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছি।’ দেশবাসীর সহাতায় নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এ সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ দিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় ময়মনসিংহ মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে নগরীর নতুন বাজার দলীয় কার্যালয়ে কুরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় জিয়াউর রহমানের জীবনের ওপর স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন। সভা শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অসহায়দের মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



