আলজাজিরা
কট্টর অর্থোডক্স (আল্ট্রা-অর্থোডক্স) ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে মিত্রদের মধ্যে ক্রমাগত বিরোধের জেরে আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছে ইসরাইলের ক্ষমতাসীন জোট সরকার। আগামী সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবটি পাস হলে (যা প্রায় নিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছে), পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী আগামী আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে এই ভোট হতে পারে, যা আগামী অক্টোবরের ২৭ তারিখে সরকারের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই মাস আগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
২০২২ সালে গঠিত ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জোট সরকারের অন্যতম প্রধান অংশীদার ছিল কট্টর অর্থোডক্স রাজনৈতিক দলগুলো। ইসরাইলের প্রায় সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের জন্য সামরিক পরিষেবা বাধ্যতামূলক হলেও নিজেদের জনগোষ্ঠীর যুবকদের এই নিয়ম থেকে মুক্ত রাখাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা রাজনৈতিক প্রচারণার মূল ভিত্তি বানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারে এই সংকটের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৫ সালের জুলাই মাসে। সেই সময় কট্টর অর্থোডক্স দল শ্যাস এবং ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম (ইউটিজে) হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, তাদের দাবি অনুযায়ী সেনা নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আইন পাস না করা হলে তারা জোট থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবে।
দলগুলো এত দিন নেসেটের গুরুত্বপূর্ণ ভোটগুলোতে সরকারকে সমর্থন দিয়ে এলেও বর্তমানে ইউটিজের অন্যতম উপদল দেগেল হাতোরাহ সরাসরি সরকারের পতন দাবি করেছে। দলটির আধ্যাত্মিক নেতা রাব্বি ডভ ল্যান্ডো বলেছেন, তিনি অবশেষে নেতানিয়াহুর ওপর থেকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস হারিয়েছেন। নিজের দলের নেসেট সদস্যদের উদ্দেশ্যে এই রাব্বি বলেন, এখন থেকে আমরা কেবল তা-ই করব যা কট্টর ইহুদি এবং আমাদের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর (ইয়েশিভা) জন্য মঙ্গলজনক। আমাদের উচিত যত দ্রুত সম্ভব নেসেট ভেঙে দেয়ার জন্য কাজ করা। রাজনৈতিক জোট বলতে আমাদের জন্য এখন আর কিছুর অস্তিত্ব নেই। কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সেনা নিয়োগের এই বিতর্ক এবং ইসরাইলের রাজনীতিতে এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে :
কট্টর ইহুদিদের সামরিক পরিষেবা প্রত্যাখ্যান কি আইনিভাবে বৈধ?
১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত কট্টর অর্থোডক্স পুরুষেরা সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছিলেন। তবে ১৯৯৮ সালে ইসরাইলের হাইকোর্ট এই অব্যাহতিকে অবৈধ ঘোষণা করেন। এরপর থেকে কট্টরপন্থীদের নিয়োগ পিছিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের নেয়া একের পর এক সাময়িক পদক্ষেপও আদালতের রায়ে বারবার বাতিল হয়ে যায়।
দিন দিন কট্টর অর্থোডক্স জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বিভিন্ন সামরিক অভিযানের কারণে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নতুন সেনার প্রয়োজনীয়তাও তীব্র হচ্ছে। ফলে এই জনগোষ্ঠীর পুরুষদের সেনা নিয়োগের আওতায় আনার চাপও দিন দিন জোরদার হচ্ছে। ২০২৪ সালে ইসরাইলের হাইকোর্ট আবার এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন এবং সরকারকে অচলাবস্থা ভেঙে কট্টর অর্থোডক্স পুরুষদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ শুরু করার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশের পর সেনাবাহিনী কট্টর ইহুদিদের লক্ষ্য করে হাজার হাজার নিয়োগের নোটিশ পাঠায়, কিন্তু এর কার্যকারিতা ছিল একেবারেই নগণ্য। নেসেটে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর পাঠানো প্রায় ২৪ হাজার সমন বা নোটিশের বিপরীতে এ পর্যন্ত মাত্র ১,২০০ জন কট্টর অর্থোডক্স যুবক সাড়া দিয়েছেন।



