নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নারীসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ভাটারার নর্দ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন, বাড্ডা ও ডেমরা এলাকার সড়কে একজন করে নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, লাইজু বেগম (৩৮), তার স্বামী কবির জমাদ্দার (৪৭), ফুফাতো বোন খুশি বেগম (৩৫), রবিউল ইসলাম (২২), ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মোখলেছুর রহমান (৩৫) ও দরজি রাজিবুল ইসলাম (২৮)।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত বুধবার সকাল ৬টার দিকে ভাটারা থানার নর্দ্দা নতুনবাজার এলাকায় একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজক ভেঙে ফেলে। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসটি উল্টো লেন ধরে আসা আরেকটি বাসে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের চারজন আরোহী নিহত হন। এ সময় দু’টি বাসে থাকা অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন।
ভাটারা থানার এসআই নেসার উদ্দিন বলেন, পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহনের একটি বাস এবং রাজধানীর উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনের একটি বাসের মধ্যে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
নেসার উদ্দিন আরো বলেন, ঘটনাস্থলে একজন নারী মারা যান। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে দু’জন এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন মারা যান। চারটি লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়। এরপর স্বজনদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়।
পুলিশ জানায়, লাইজু বেগম, তার স্বামী কবির জমাদ্দার ও লাইজুর ফুফাতো বোন খুশি বেগম গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তারা গাজীপুরেই থাকতেন। গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে গাজীপুর থেকে বাসে উঠে রাজধানীর সায়েদাবাদে যাচ্ছিলেন। সেখান থেকে বাসে তাদের বাগেরহাটে যাওয়ার কথা ছিল। নিহত বাসযাত্রী রবিউল ইসলামের বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে।
অপরদিকে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় গত বুধবার সকালে বেপরোয়া গতির একটি বাসের ধাক্কায় মোখলেছুর রহমান (৩৫) নামের একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক নিহত হন। বাড্ডা থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালে উত্তর বাড্ডায় এমজেডএম নামের বেসরকারি হাসপাতালের সামনে ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের বেপরোয়া গতির একটি বাস পেছন থেকে মোখলেছুর রহমানের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ওই ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করেন। ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং বাসচালক ফয়সালকে আটক করা হয়।
মোখলেছুর রহমান পরিবার নিয়ে ভাটারা নতুনবাজার কোকা-কোলা গলিতে ভাড়া থাকতেন। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পুকুরিয়ায়। তার বাবার নাম আকবর আলী।
অন্যদিকে ঈদের দিন বৃহস্পতিবার বেড়াতে গিয়ে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার কাছে প্রাইভেট কারের চাপায় রাজিবুল ইসলাম (২৮) নামের একজন নিহত হন। ওই দিন বেলা আড়াইটার দিকে এঘটনা ঘটে। বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন তিনি। রাজিবুল পেশায় দরজি ছিলেন।
রাজিবুল পরিবার নিয়ে রাজধানীর মুগদা এলাকায় থাকতেন। তার বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বোবাংবাইল গ্রামে।



