কূটনৈতিক প্রতিবেদক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আগামী মাসে দিল্লি যাচ্ছেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর এটাই হবে ভারতে উচ্চপর্যায়ের প্রথম সফর। আর এটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে খলিলুর রহমানে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর হতে পারে। এর আগে খলিলুর রহমান বহুপক্ষীয় সফরে জেদ্দা ও লন্ডন গেছেন।
ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সের মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে মরিশাস যাওয়ার পথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৮ এপ্রিল দিল্লি সফর করতে পারেন। আগামী ১০ থেকে ১২ এপ্রিল মরিশাসে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লি সফরটি মরিশাস থেকে আসার পথেও হতে পারে। সফরের সময়সূচি চূড়ান্ত করতে ঢাকা ও দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য সঙ্কট মোকাবেলায় অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ চেয়ে সম্প্রতি ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে সরকার। এতে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ভারত। বাংলাদেশের দেয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদি হত্যার মূল দুই আসামিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার করেছে ভারত। বর্তমানে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ দিল্লি নিয়ে গেছে। এই তদন্ত শেষে আসামিদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করার জন্য বাংলাদেশ কনস্যুলার অ্যাকসেস পেতে পারে। আর বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের এক মাসের মধ্যে সীমান্তে একজন বাংলাদেশীও বিএসএফের হাতে হত্যা না হওয়াকে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সবকিছু মিলিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি পথরেখা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ভিসাব্যবস্থা সহজীকরণ, কানেক্টিভিটি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা।
২০২৪ এর ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর সংখ্যালঘু ইস্যুতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অব্যাহত প্রচারণা চালানো হলে ভারতের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এ সময় শেখ হাসিনাও তার দলের নেতাকর্মীদের নানা ধরনের উসকানিমূলক নির্দেশনা দিতে থাকে, যা অন্তর্বর্তী সরকার ভারতকে অনুরোধ করেও বন্ধ করতে পারেনি। তবে বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। এরপর সংখ্যালঘু ইস্যুতে কোনো প্রচারণা বা শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্যও শোনা যায়নি। বরং বিএনপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি তুলে দেয়া হয়, যাতে তারেক রহমানকে সপরিবারে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর আগে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন মরহুম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে ঢাকা এসেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।



