নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায় পাল্টে দেয়ার অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক দুই উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং ডক্টর খলিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের দিন রাত ১০টার পর রহস্যজনকভাবে ফলাফল সম্প্রচার বন্ধ রাখা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিলেও দক্ষ ‘ইঞ্জিনিয়াররা’ গভীর রাতে কারচুপি করে ফলাফল পরিবর্তন করেছেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে সরকার অতীতের মতো কর্তৃত্ববাদী পথে হাঁটছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান সংস্কারের অঙ্গীকার থাকলেও সরকার এখন আদালতের দোহাই দিয়ে তা ঝুলিয়ে রাখতে চাইছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জয়ী হওয়া এই নির্বাচনের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে নির্বাচন বাতিল করে আবার ভোট দিতে হবে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে একটি বিশেষ পক্ষকে মেইনস্ট্রিমে আসতে দেয়া হয়নি। তার এই বক্তব্যই প্রমাণ করে যে তিনি নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন রাজসাক্ষী। তিনি অবিলম্বে এই বক্তব্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর খলিলুর রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনে বিশেষ সেবা দেয়ার ‘পুরস্কার’ হিসেবেই তাকে এই পদ দেয়া হয়েছে।
সমাবেশে নবনির্বাচিত এমপি কামাল হোসাইন বলেন, ১৮ কোটি মানুষের ভোটাধিকার এবং চব্বিশের বিপ্লবীদের রক্ত বৃথা যেতে দেয়া হবে না। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, আধুনিক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাষ্ট্রগঠনে যারা কাজ করতে চেয়েছিলেন, তাদের ষড়যন্ত্র করে সরিয়ে রাখা হয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন ও বিজয়নগর হয়ে কাকরাইলে গিয়ে শেষ হয়। নেতৃবৃন্দ নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।



