১০ বছর ধরে রেলিংহীন সেতুতে চলাচল

ঝুঁকিতে নবাবগঞ্জের কয়েক গ্রামের মানুষ

Printed Edition

দোহার (ঢাকা) সংবাদদাতা

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের ভাঙাপাড়া খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু প্রায় এক দশক ধরে রেলিংবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করছেন পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছত্রপুর, করপাড়া, ভাঙাপাড়া ও জৈনতপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সুবিধার জন্য ২০০২ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ভাঙাপাড়া খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করে। নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই সেতুর দুই পাশের রেলিং ভেঙে যায়, চুরি হয়ে যায় রেলিংয়ের রড। এরপর থেকে সেতুটি সম্পূর্ণ রেলিংবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটি তুলনামূলক সরু। পাশাপাশি সড়ক থেকে সেতুতে ওঠার অংশটি বেশ ঢালু হওয়ায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে রাতের বেলা কিংবা বৃষ্টির সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরো বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে একাধিক মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহন খালে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, গত ১০ বছরে অন্তত ১০ থেকে ১২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। চার বছর আগে আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি সেতু থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান তিনি। বারুয়াখালী এলাকার বাসিন্দা আবদুল জলিল বলেন, সেতুটি এলাকার মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রেলিং না থাকায় প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত রেলিং নির্মাণ বা সংস্কার প্রয়োজন।

ইজিবাইকচালক সাগর হোসেন বলেন, প্রতিদিন এই সেতু দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। দুই পাশে কোনো রেলিং না থাকায় সামান্য অসাবধানতায় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে- এটা মাথায় রেখেই সেতুতে উঠতে হয়।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী নাজমুল করিম বলেন, পুরনো ও সরু সেতুগুলোর সংস্কারে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া কঠিন। তবে ভবিষ্যতে প্রশস্ত সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে একসাথে দু’টি যানবাহন চলাচল করতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, নতুন সেতুর পরিকল্পনার পাশাপাশি বিদ্যমান সেতুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে রেলিং নির্মাণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।