অ গ্নি ঝ রা মা র্চ । ১০

পাকিস্তানি প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বান

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এক ইশতেহারে বাঙালি সৈন্য, ইপিআর, আইবিসিআইডি ও পুলিশ সদস্যদেরকে পাকিস্তানি প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানায়। ওই ইশতেহারে দেশের সব বাড়ি ও যানবাহনে কালো পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ জারি করা হয়। এদিন পূর্ব পাকিস্তানের প্রবাসী ছাত্ররা জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে নারায়ণগঞ্জের জেলখানা ভেঙে ৪০ জন কয়েদি পালিয়ে যায়। এ সময় বন্দুকযুদ্ধে ২৭ জন আহত হয়। এ দিকে কয়েক দিনের আন্দোলন বিক্ষোভে নিহতদের স্মরণে ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সারা দেশে সরকারি, বেসরকারি ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেই সাথে উত্তোলন করা হয় বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত পতাকা।

এদিন সামরিক কর্তৃপক্ষ এক নির্দেশ জারি করে। এতে বলা হয়, কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি সম্পত্তি বিনাশ বা সেনাবাহিনীর চলাচল কিংবা সেনাবাহিনী সংরক্ষণে বাধার সৃষ্টি করতে পারে এভাবে সড়ক, রেল ও বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহে অন্তরায় সৃষ্টি করলে তাদের তৎপরতা হামলার সমতুল্য এবং সামরিক বিধিতে দণ্ডনীয় বলে গণ্য করা হবে।

জাতীয় লীগ প্রধান আতাউর রহমান খান এ দিন পল্টন ময়দানের জনসভায় ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি অবিলম্বে দেশে একটি জাতীয় সরকার ঘোষণার আহ্বান জানান। দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায় ‘আর দেরি নয়’ শিরোনামে সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘বল প্রয়োগ করিয়া জনগণকে দমানো যাইবে না। জনপ্রতিনিধিদের হাতে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করিতে হইবে’।

ফরিদপুরে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন : ঢাকার নির্দেশ অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ফরিদপুর জেলা স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। ১০ মার্চ ফরিদপুর জেলা স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে। পরিষদের উদ্যোগে অম্বিকা ময়দানে আয়োজিত বিশাল ছাত্র জমায়াতে এ পতাকা উত্তোলন করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে ফরিদপুরের ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় এ সমাবেশে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের পর একই দিন ফরিদপুর ডিসি অফিসেও পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর ফরিদপুর সার্কিট হাউজে পতাকা উত্তোলন করতে গেলে সেখানে ছাত্র-জনতা সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হয়। সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জে আহত হন অনেকে।

ফরিদপুর জেলা স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১০ মার্চ শুধু যে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে তা নয়, বরং স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর আগেই ফরিদপুর থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে যশোর ক্যান্টনমেন্টে চলে যেতে বাধ্য করে। পরিষদের পক্ষ থেকে ডিসি অফিসকে জানানো হয়, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে চলে যেতে হবে। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। এর ফলে ১৭ মার্চ ফরিদপুর সার্কিট হাউজ থেকে সেনাবাহিনীকে যশোর ক্যান্টনমেন্টে ফিরিয়ে নেয়া হয়।