সৌন্দর্যের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে ‘আগলি শু’

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

একসময় ফ্যাশনেবল জুতার মানেই ছিল চিকন হিল, ঝকঝকে ডিজাইন কিংবা নিখুঁত সৌন্দর্য। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই ধারণা বদলে গেছে নাটকীয়ভাবে। এখন ফ্যাশনপ্রেমীদের নজর কাড়ছে এমন সব জুতা, যেগুলোকে অনেকে সরাসরি ‘অদ্ভুত’, ‘বেখাপ্পা’ কিংবা ‘কুৎসিত’ বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ফ্যাশন দুনিয়ায় এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চওড়া, ভারী, কখনো আলু আকৃতির মতো দেখতে কিংবা পাঁচ আঙুল আলাদা করা জুতা। ব্যবহারিক সুবিধা ও অস্বাভাবিক নকশার মিশেলে তৈরি এসব ‘আগলি শু’ এখন বিশ্বজুড়ে নতুন ট্রেন্ড।

ফ্যাশনের এই নতুন ধারায় জায়গা করে নিয়েছে ক্রক্স, আঙুল আলাদা করা ফাইভ-টো স্নিকার, এমনকি ব্যাঙ-আকৃতির ওয়েলিংটন বুটও।

কাঠের খড়ম বা ক্লগও নতুনভাবে জনপ্রিয় হয়েছে। চিকিৎসাবান্ধব অর্থোপেডিক ডিজাইন থেকে শুরু করে প্যারিসভিত্তিক ব্র্যান্ড ওয়াই/প্রজেক্টের জেলি ক্লগ- সবই এখন ফ্যাশনের অংশ। বিশেষ করে সবুজাভ রঙের গার্ডেনিং ক্লগ এখন ব্রুকলিন থেকে প্যারিস পর্যন্ত ট্রেন্ডি তরুণদের পায়ে দেখা যাচ্ছে। বর্তমান ট্রেন্ডে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ‘ফ্র্যাঙ্কেনশু’- অর্থাৎ দুই বা ততোধিক ধরনের জুতার মিশ্রণ।

এর মধ্যে রয়েছে ‘স্নিকারিনা’, যা স্নিকার ও ব্যালে পাম্প জুতার সংমিশ্রণ। এ ছাড়া ‘স্নোফার’ নামের আরেক ধরনের জুতা তৈরি হয়েছে স্নিকার ও লোফারের মিশেলে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একে ‘স্পর্কের মতো জুতার সংস্করণ’ বলে বর্ণনা করেছে। এ ছাড়াও বাজারে এসেছে সক-বুট, ক্লগ-ট্রেইনার এবং আবার ফিরে আসা ওয়েজ-ট্রেইনার।

সবচেয়ে বিতর্কিত ট্রেন্ডগুলোর একটি হলো বিভক্ত আঙুল বা ‘ক্লোভেন-টো’ জুতা। অনেকে এগুলোকে অস্বস্তিকর বা হাস্যকর মনে করলেও ফ্যাশন অনুরাগীদের কাছে এর আবেদন বাড়ছে দ্রুত। এই ধারা জনপ্রিয় করে তোলে ফরাসি ফ্যাশন হাউজ মেসন মার্জিয়েলার ‘ট্যাবি’ জুতা।

ফ্যাশন বিশ্লেষকদের মতে, এসব জুতার জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে আত্মপ্রকাশের প্রবণতা। ফ্যাশন টিংজ নিউজলেটারের প্রতিষ্ঠাতা জে’নে ফিলিপসের ভাষায়, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বেখাপ্পা বা অদ্ভুত জুতা পুরো পোশাকের কঠোরতা ভেঙে দেয় এবং একজনকে আরো স্বতন্ত্র ও সাংস্কৃতিকভাবে সচেতন হিসেবে তুলে ধরে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ‘পারফেক্ট’ সাজসজ্জার বিপরীতে এই ট্রেন্ড এক ধরনের প্রতিবাদও বটে।