বিশেষ সংবাদদাতা
বাংলাদেশে শিশুশ্রম ও জোরপূর্বক শ্রমকে ইস্যু করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের চেষ্টার পেছনে রাজনৈতিক অর্থনীতি আছে বলে মনে করছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ইতোমধ্যে গড়ে ১৫ শতাংশ সাধারণ শুল্ক এবং সম্প্রতি স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী প্রায় ১৯ শতাংশ রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কার্যকর রয়েছে। এর সাথে নতুন করে আরো ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক যোগ হলে মোট শুল্কের বোঝা প্রায় ৪৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা মার্কিন বাজারে বাংলাদেশী রফতানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে গতকাল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি : উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ শীর্ষক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নে ড. মোস্তাফিজুর রহমান এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের চোখ দিয়ে দেখার চেষ্টা করে। আমাদের দেশের বাস্তবতাকে তারা বিবেচনায় নেয় না। আমাদের ইটভাটাসহ অন্যান্য জায়গায় শিশুশ্রম আছে। পরিবারের প্রয়োজনে অবস্থার প্রেক্ষিতে শিশুরা সেখানে যায়। কিছুদিন আগে পরিসংখ্যান ব্যুরোরও একটা সার্ভে হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশে ৩২ লাখ পথশিশু আছে। যারা বিভিন্নভাবে নিগৃহীত হয়। কিন্তু এটাকে দেখিয়ে, এটার সুরাহা হিসেবে আমাদের দেশের রফতানির উপর শুল্ক আরোপ করবে কি না, এটাই হলো প্রশ্ন।
শিশুশ্রম নিয়ে ড. মোস্তাফিজ বলেন, এখানে যদি এমন হতো- বাংলাদেশে শিশুশ্রম আছে আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শিশুশ্রম যাতে না থাকে এ জন্য একটা সহায়তা তহবিল করেছে তাহলে ঠিক ছিল; কিন্তু এটা না করে যখন আমার রফতানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয় ১০ শতাংশ, তখনই প্রশ্নটা আসে। এটা কি শিশু শ্রমিকদের ওপর ভালোবাসার কারণে, নাকি তারা যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিল, পাল্টাপাল্টি শুল্ক যা মার্কিন আদালত বাতিল করল। পরে তাদের প্রেসিডেন্ট বিশেষ ক্ষমতাবলে আরো ১০ শতাংশ ১৫০ দিন পর্যন্ত করলেন, যা আগামী জুলাইয়ে থাকবে না। তো এখানে ফোর্সড লেবার ইত্যাদি দেখিয়ে আবার ১০ শতাংশ যাতে করা যায়। সুতরাং এখানে অবশ্যই একটা রাজনৈতিক অর্থনীতি আছে।
তিনি বলেন, আমরা যে চুক্তিটা করলাম, মার্কিন বাজারে আমার গড় শুল্ক ১৫ শতাংশ। সেটার ওপর অতিরিক্ত ১৯ শতাংশ শুল্ক বসবে। সেই চুক্তি আমরা করলাম। এই চুক্তি কার্যকর হলে, ৩৪ শতাংশ শুল্ক তার সাথে আরো ১০ শতাংশ, অর্থাৎ আমাদেরকে ৪৪ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। আর যারা চুক্তি করেনি তাদের ওই ১৯ শতাংশ নাই। এখানে মাত্র ৯টি দেশ চুক্তি করেছে। পাল্টাপাল্টি শুল্ক বসানো হয়েছিল ৬০টি দেশের ওপর। তাহলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতার পরিস্থিতি কি? এসব আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।
ড. মোস্তাফিজ বলেন, আমরা যে চুক্তিটি করেছি তা অবশ্যই এখন আবার আলোচনা করা দরকার। আর এখন যেটা করা হয়েছে সেটায় আমরা কী করতে পারি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে আমাদের সহায়তা করতে পারে সেটা দেখা। ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কারোপ করে এটার সমাধান হবে না। তাতে আরো অতিরিক্ত সংখ্যক ফোর্সড লেবার বাড়তে পারে।



