মোহাম্মদ রাসেল ইটনা (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ‘অল-ওয়েদার রোড’ তীব্র নদীভাঙনের কবলে পড়ে হুমকির মুখে পড়েছে। বাঙ্গালপাড়া থেকে নওগাঁও পর্যন্ত সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নদীভাঙনের ফলে সড়কের পাশের ফসলি জমি ও একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি নদীতে তলিয়ে গেছে। এতে গত পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে নওগাঁও ও উসমানপুর গ্রামের শত শত পরিবার। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল চার্জ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ দিকে সঙ্কট মোকাবেলার পরিবর্তে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছে।
জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে আরো ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ চললেও নদীভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন আলম বলেন, ‘ভাঙন শুরু হওয়ার পরই আমরা এলজিইডিকে জানিয়েছিলাম। কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করলেও সময়মতো ব্যবস্থা নেননি।’
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রুস্তম জানান, সড়কের শেষ প্রান্তে মেঘনা নদীর ওপর প্রায় ১৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এক হাজার মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণাধীন রয়েছে। সেতুটি চালু হলে সারা বছর সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত হতো। কিন্তু বর্তমান ভাঙন সেই সম্ভাবনাকেই হুমকির মুখে ফেলেছে। নওগাঁও গ্রামের হিরণ মিয়া বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি ও কেরোসিনের কুপি জ্বালিয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে। মোবাইল চার্জ দিতে না পারায় স্বজনদের সাথে যোগাযোগও করা যাচ্ছে না।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিন জানান, সড়ক ভেঙে যাওয়ায় জরুরি রোগী হাসপাতালে নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘গত ৭ মে’র আগে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাইনি। আগে জানানো হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যেত। এখন জরুরি পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’



