সোমালিল্যান্ডকে ইসরাইলের স্বীকৃতি আরব দেশগুলোর প্রত্যাখ্যান

Printed Edition
সোমালিল্যান্ডকে ইসরাইলের স্বীকৃতি আরব দেশগুলোর প্রত্যাখ্যান
সোমালিল্যান্ডকে ইসরাইলের স্বীকৃতি আরব দেশগুলোর প্রত্যাখ্যান

রয়টার্স

  • ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেও এ পর্যন্ত জাতিসঙ্ঘের কোনো সদস্যরাষ্ট্র সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়নি
  • ইসরাইলের পদক্ষেপ ‘একতরফা, বিচ্ছিন্নতাবাদী পদক্ষেপ’ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী : সৌদি আরব

সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন সোমালিল্যান্ড অঞ্চলকে ইসরাইলের স্বীকৃতির নিন্দা জানিয়েছে আরব-উপসাগরীয় দেশগুলো। এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আখ্যাায়িত করা হয়েছে এবং সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সৌদি আরব বলেছে, ইসরাইলের পদক্ষেপ ‘একতরফা, বিচ্ছিন্নতাবাদী পদক্ষেপ’ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব এবং এর ভূখণ্ডের ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতি তাদের ‘পূর্ণ সমর্থন’-এর কথা জোর দিয়ে বলেছে। সোমালিয়ার স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন ‘সমান্তরাল সত্তা আরোপের প্রচেষ্টা’ প্রত্যাখ্যান করে রিয়াদ বলেছে, সৌদি আরব দেশের (সোমালিয়ার) বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমর্থন করে।

ফিলিস্তিনও সোমালিল্যান্ডকে ইসরাইলের স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এটিকে আরব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন, আরব ও আন্তর্জাতিক ঐকমত্য এবং ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার সিদ্ধান্তের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ সোমালিয়ার ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করে।

মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছে, সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়া বা বিচ্ছিন্নতাকে বৈধতা দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া সোমালিয়ার স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণœ করে। ইসরাইল আগে ফিলিস্তিনিদের, বিশেষ করে গাজা থেকে স্থানান্তরের জন্য সোমালিল্যান্ডকে একটি ‘গন্তব্য’ হিসেবে তুলে ধরেছিল। মিসর জানিয়েছে, তারা এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করার জন্য আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে সমন্বয় করেছে। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদুল আতি সোমালিয়া, তুরস্ক এবং জিবুতির নেতাদের সাথে ফোনে কথা বলেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রীরা স্বীকৃতির ‘সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান এবং নিন্দাতে’ একমত হয়েছেন এবং সোমালিয়ার ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থনের ওপর জোর দিয়েছেন।

কুয়েতও এই স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করে এটিকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে। এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘সব ভূখণ্ডের ওপর সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি কুয়েতের পূর্ণ সমর্থন এবং দেশের বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইরাক ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। আরব লিগের বর্তমান অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাগদাদ বলেছে, এই স্বীকৃতি সোমালিয়ার ঐক্যকে ক্ষুণœ করে এবং এটি আফ্রিকার হর্নে স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘বেআইনি অনুশীলনের’ বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে দখলদার ইসরাইলি সরকার। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে সোমালিল্যান্ডের আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি নেই। সোমালি সরকার সোমালিল্যান্ডকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে এবং এটিকে তার ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে। এর সাথে যেকোনো সরাসরি চুক্তি বা সম্পৃক্ততাকে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব এবং ঐক্যের লঙ্ঘন হিসেবে দেখে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়ে জানান, পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে ইসরাইল ও সোমালিল্যান্ড একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ‘আব্রাহাম চুক্তি’র চেতনার আলোকে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই স্বীকৃতির আওতায় উভয় দেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ও দূতাবাস খোলার প্রক্রিয়া শুরু হবে।