কান ডকসে প্রামাণ্যচিত্র প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের চার নির্মাতা

Printed Edition
কান ডকসে প্রামাণ্যচিত্র প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের চার নির্মাতা
কান ডকসে প্রামাণ্যচিত্র প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের চার নির্মাতা

বিনোদন ডেস্ক

কান চলচ্চিত্র উৎসবের বাণিজ্যিক বিভাগ মার্শে দ্যু ফিল্মের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রোগ্রাম ‘কান ডকস’। সমকালীন গল্প বলার ক্ষেত্রে প্রামাণ্যচিত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে উদযাপন করা হয় এতে। সৃজনশীল প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতারা আন্তর্জাতিক সহ-প্রযোজনা, পরিবেশনা ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের সুযোগ পেয়ে থাকেন এই কার্যক্রমে। এবারের কান ডকসে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের চারটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকল্প। এগুলো হলো- এসএম কামরুল আহসান প্রযোজিত ‘ইন সার্চ অব হার’, সুমন দেলোয়ার পরিচালিত ‘মাই কাজিন’, কাজী আরেফিন আহমেদের ‘অপেক্ষা’ এবং চিত্ত আনন্দীর ‘ব্লু কলারস ফ্রম দ্য ফ্রন্টলাইন’। ১৪ মে ফ্রান্সের দক্ষিণে ভূমধ্যসাগরের তীরে রিভিয়েরা এইচফোর ভেন্যুতে শুরু হয়েছে এবারের আসরের কান ডকস। চলবে ১৯ মে পর্যন্ত। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা, বিক্রয় প্রতিনিধি, উৎসব প্রোগ্রামার ও প্রযোজকেরা অংশ নিচ্ছেন এতে। তাদের সামনে নিজেদের প্রকল্পগুলোর সম্ভাবনা তুলে ধরছেন বাংলাদেশের উদীয়মান নির্মাতারা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশব্যাপী উন্মুক্ত আহ্বানের পাশাপাশি কয়েক ধাপে বিচারকদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্পগুলো নির্বাচন করা হয়। আয়োজকদের মতে- শিল্পমান, স্বতন্ত্র নির্মাণভঙ্গি এবং আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা থাকায় এগুলোকে বেছে নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, বিসুবো আর্ট অর্গানাইজেশন এবং ফ্রান্স সরকারের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল শিল্প কর্মসূচির (পিআইসিসি) সহায়তায় এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নির্বাচিত প্রকল্পগুলোতে সমকালীন বাংলাদেশের বিভিন্ন বাস্তবতা ও মানবিক অভিজ্ঞতা উঠে আসবে। এর মধ্যে ‘অপেক্ষা’র গল্প এক বৃদ্ধাকে কেন্দ্র করে। ভিসা প্রত্যাখ্যানের পর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি। ডিমেনশিয়ার কারণে ধীরে ধীরে তার স্মৃতিগুলো মুছে যাওয়ার আগেই সেগুলো সংরক্ষণের চেষ্টা করে নির্মাতা নাতি।

‘ব্লু কলারস ফ্রম দ্য ফ্রন্টলাইন’-এ গ্রামীণ বাংলাদেশের তিন প্রজন্মের নারীদের তুলে ধরা হবে। তাদের পরিবার অভিবাসন, যুদ্ধ ও টিকে থাকার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন কাটায়। ‘ইন সার্চ অব হার’ প্রকল্পে দুই মধ্যবয়স্ক ডাচ দত্তক সন্তান মজনু ও বিয়াঙ্কার গল্প থাকবে। নিজেদের শিকড়ের সন্ধানে বাংলাদেশে ফিরে আসে তারা। এরপর অপহৃত শিশুদের ঘিরে থাকা এক গোপন ইতিহাস উন্মোচনের চেষ্টা করে। ‘মাই কাজিন’-এর গল্পে দেখা যাবে, বাংলাদেশী অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীর মধ্যে এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়ে। এ কারণে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য পথ চলতে গিয়ে পরিবার ও সমাজের বাধার সম্মুখীন হন এই নারী।