আলি জামশেদ বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের নিকলী-বাজিতপুরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি আবারো প্রকাশ্যে এসেছে শহীদ প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে। পৃথক ব্যানার ও আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ৩০ ও ৩১ মে নিকলী ও বাজিতপুরে বিএনপির বিভিন্ন পক্ষ আলাদাভাবে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও স্মরণসভা আয়োজন করে। একক কর্মসূচির পরিবর্তে পৃথক আয়োজন দলটির সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কারণে দলের তৃণমূল পর্যায়ে বিভক্তি আরো প্রকট হয়েছে। এর সুযোগ নিচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। ফলে অনেক ক্ষেত্রে মূলধারার বিএনপির নেতাকর্মীরা সাংগঠনিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার বহিষ্কার এবং স্থানীয় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব বর্তমান পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও বিরোধ মেটেনি; বরং বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি, ত্রাণ বিতরণ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
বাজিতপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র এহসান কুফিয়া বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ও ত্যাগের রাজনীতি প্রশ্নবিদ্ধ হলে দীর্ঘ দিনের কর্মীরা হতাশ হন। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী বদরুল আলম শিপু বলেন, বহিষ্কৃত নেতারা দলীয় ব্যানারে কর্মসূচি পালন করলে তা সাংগঠনিকভাবে মূল্যায়নের বিষয়।
নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু বলেন, দলীয় গঠনতন্ত্র মেনেই তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না।
তবে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



