রংপুর ব্যুরো
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, আমেরিকার সাথে চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাদের (জামায়াত) সাথে কোনো আলোচনা করেনি- এটা আগেও বলেছি, এখনও বলছি, দায়িত্ব নিয়েই বলছি। আমরা তিস্তার বিনিময়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প মেনে নেব না, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতেই হবে।
গতকাল বিকেলে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সুধী সমাবেশে যোগদানের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তার সাথে দলের রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, সহকারী পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি, রায়হান সিরাজি এমপি, মহানগর জামায়াত আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম কাজল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।
পশ্চিমবঙ্গে প্রাদেশিক সরকার পরিবর্তন ও সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, আমরা এর নিন্দা জানাই। এটা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দুনিয়ার যেখানেই এরকম অপকর্ম হবে আমরা তার নিন্দা জানাই। শুধু ধর্মীয় পরিচয়ে কাউকে আঘাত করার অধিকার এই দুনিয়া ও কোনো দেশের সংবিধানও দেয়নি। কেউ যদি এটা করে সেটা মানবতার বিরুদ্ধে জুলুম, আমরা সেটার সবসময় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
আমেরিকার সাথে চুক্তির বিষয়ে বিএনপি-জামায়াতের সাথে কথা হওয়া সংক্রান্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই উপদেষ্টার বক্তব্যের বিষয়ে দলীয় অবস্থান তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, এই বিষয়ে আগেও প্রশ্ন এসেছিল। তখন আমি বলেছি, সরকারের (অন্তর্বর্তীকালীন) পক্ষ থেকে কেউ আমাদের সাথে এ বিষয় (আমেরিকার সাথে চুক্তি) নিয়ে কোনো আলোচনা করে নাই। এখনো আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে বলছি, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো একজন মানুষ এই বিষয় নিয়ে আমাদের সাথে একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি, এটাই হচ্ছে আমাদের অবস্থান।
ডা: শফিক বলেন, আমরা পদ্মা ব্যারেজের উদ্যোগকে অভিনন্দন জানাই, কিন্তু এটা তিস্তার বিনিময়ে নয়। তিস্তার জায়গায় তিস্তাকে অবশ্যই তার পাওনা দিতে হবে এবং এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হবে। এর ভিন্ন আমরা কিছু চাই না। আমি সংসদের ভেতরে স্পষ্টভাবে এ নিয়ে কথা বলেছি, আপনারা দেখেছেন। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান একদম পরিষ্কার।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা দলের মুক্তি নয়, দেশবাসীর মুক্তি চাই। আমরা দলের উন্নতি নয়, গোটা দেশবাসীর উন্নতি চাই। এইভাবেই আমরা একটা ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে চাই। আপনারা দেখেছেন প্রায় সত্তর ভাগ মানুষ রায় দিয়েছিল গণভোটের পক্ষে; কিন্তু সরকারি দল এটাকে অপমান এবং অগ্রাহ্য করেছে। আমরা কথা দিয়েছি এই কর্মসূচি আমরা বাদ দেবো না, পরিত্যক্ত ঘোষণা করব না। সংসদের ভেতরে লড়াই চালিয়ে যাবো, সংসদের বাইরেও লড়াই চালিয়ে যাবো। আমরা গভীর আস্থাশীল গণভোটের রায় এই বাংলার জমিনে একদিন ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। গণভোটের রায় অপমানে, অবহেলায় পরিত্যক্ত হবে না ইনশাআল্লাহ।
পরে তিনি মহানগর জামায়াত আমির এটিএম আজম খানকে রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে উপস্থিত সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। সুধী সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
এর আগে দুপুর ১২টায় নগরীর মডেল কলেজ মিলনায়তনে রংপুর বিভাগের থানা ও উপজেলা জামায়াতের আমির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। এ সময় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা-সমর্থন ছাড়া জোর করে আমরা কি এই দেশে আল্লাহর দীন কায়েম করতে পারব? জনগণের যেদিন আস্থা তৈরি হবে যে, আমাদের কাছে দেশ, জাতি, দ্বীন নিরাপদ- সেদিন আল্লাহর মেহেরবানিতে দেখবেন সব ঘাট এক জায়গায় মিলে যাবে। সব নদী এক মোহনায় এসে একটা সাগর তৈরি করবে ইনশাআল্লাহ। এই কাজটা আপনাকে-আমাকে করতে হবে। আমাদের লেনদেন, আচার-আচরণে আগের চেয়ে অনেক সতর্ক হতে হবে।
জামায়াত আমির বলেন, মনে রাখবেন, এর আগে কখনো আপনারা (জামায়াত) ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন এটা কেউ মনে করত না। মনে করত একটা ইফেক্টিভ দল হিসেবে বেঁচে থাকবে- এতটুকুই। এখন অনেকে মনে করে আপনারা হবেন ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী। কাজেই আপনাদের প্রত্যেককে সার্চলাইট দিয়ে দেখা হবে। আপনাদের শরীরের একটা লোমকূপও সার্চ লাইটের বাইরে থাকবে না।
নেতাদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, দু’টি সার্চলাইট আপনাদের দিকে এখন তাক করা আছে। একটা আল্লাহ তায়ালার, আরেকটা জনগণের। এই দু’টিকেই সম্মান-সমীহ করতে হবে। সাদা কাপড় যারা পরে তারা খুবই সতর্ক থাকে; যেন কোনো দাগ না লাগে। কিন্তু অল্প দাগ লাগলেও ভাসে বেশি, দৃশ্যমান হয় বেশি। আপনারা সাদা কাপড়, দাগ লাগলে খবর আছে।
এর আগে সকাল ৯টায় তিনি একদিনের সফরে রংপুর সার্কিট হাউজে পৌঁছান। এ সময় সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। পরে তিনি জামায়াত ও শিবিরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।



