গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

Printed Edition
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন : পিআইডি
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন : পিআইডি

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘জনগণের কাছে অবাধ তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকসহ সব অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে জবাবদিহিতার পরিধি নির্ধারণ করে গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।’

শুক্রবার সকালে বরিশাল সার্কিট হাউজের সভাকক্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিআরটিএর চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের ব্যবস্থাপনাটাকে আধুনিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে চাই। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বব্যবস্থা এবং ইকো সিস্টেমের নতুন গণমাধ্যমের সাথে আমরা যুক্ত হতে পারিনি এখনো।

‘আমাদের তথ্য মন্ত্রণালয় যে আমলে, গড়ে উঠেছে তখন তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যম ছিল না। আবার এখন যে ধরনের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যমের যে প্রসার তৈরি হয়েছে, এর সাথে যেভাবে খাপ খাওয়ানো দরকার তা-ও এত দিনে হয়ে ওঠেনি। আমি দায়িত্ব নিয়েছি, সরকারের নীতিনির্ধারণী সবার সাথে আলোচনা করে ধীরে ধীরে জনগণের কাছে অবাধ তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করব।’

এর আগে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিআরটিএর চেক বিতরণ করেন। এ সময় বরিশাল ও পিরোজপুর জেলার ৬১ জন ক্ষতিগ্রস্তকে দুই কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।

বরিশালের জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিআরটিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা।

স্বচ্ছতার সাথে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করতে হবে

বরিশাল ব্যুরো জানায়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি বলেছেন, স্বজনপ্রীতি পরিহার করে স্বচ্ছতার সাথে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করতে হবে। এর ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সরকারি সহায়তা পাবেন। প্রতিটি ইউনিয়নে সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ও দুইজন সমাজসেবকের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে টিম গঠন করা হবে। এই টিমের মাধ্যমে উপকারভোগীদের যথার্থতা যাচাই করে সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে এবং স্বচ্ছতার সাথে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করতে হবে।

মন্ত্রী শুক্রবার বেলা ১১টায় বরিশাল সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর কাজের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্র কতটা সভ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র অর্জন করেছে- সেটি নির্ভর করে সঠিক পরিসংখ্যানের ওপর। পরিসংখ্যানের সঠিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের সংরক্ষণ এবং দ্রুত তথ্য সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর আধুনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ডাটাবেস সিস্টেম। সঠিক ডাটাবেস সিস্টেম না থাকলে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

বরিশালের স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিকীকরণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী আরো বলেন, বরিশাল দক্ষিণ বাংলার রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও এখানে উন্নত চিকিৎসার অভাব রয়েছে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়া কষ্টসাধ্য এবং সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয়বহুল। এই সঙ্কট নিরসনে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি। এ সময় তিনি বরিশালে একটি বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টার স্থাপন করাও জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন।

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মো: খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সভায় সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।