রাজশাহীতে নাগরিক সেবায় ফিরছে স্বস্তি

Printed Edition
একটি প্রকল্প পরিদর্শন করছেন রাজশাহী মহানগরীর প্রশাসক : নয়া দিগন্ত
একটি প্রকল্প পরিদর্শন করছেন রাজশাহী মহানগরীর প্রশাসক : নয়া দিগন্ত

মুহা: আব্দুল আউয়াল রাজশাহী

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে রাজশাহী মহানগরীতে নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। গত মার্চে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসকের দায়িত্ব নেয়ার পর নগর উন্নয়ন, অবকাঠামো সংস্কার ও নাগরিক সেবা কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন অনেক নগরবাসী।

গত ১৪ মার্চ এক প্রজ্ঞাপনে রাসিকের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন। ১৬ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি দাফতরিক শৃঙ্খলা, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবা জোরদারে নানা উদ্যোগ নেন।

রাসিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থমকে থাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন গতি এসেছে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তা সংস্কার, ড্রেন পরিষ্কার এবং অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ এখন নিয়মিত তদারকির আওতায় রয়েছে। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে তিগ্রস্ত সড়ক মেরামত এবং সড়ক মার্কিংয়ের কাজও শুরু হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণেও নেয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ১৫ দিনব্যাপী ফগার স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ড্রেন পরিষ্কার, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন কার্যক্রমও চলছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের হেতেমখাঁ বড় মসজিদ মোড় থেকে বর্ণালী পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর রেলক্রসিং ফাইওভারগুলোর নির্মাণকাজেও এসেছে গতি। একই সাথে শালবাগান কাঁচাবাজার, ভদ্রা কাঁচাবাজার ও নওদাপাড়া কাঁচাবাজার মার্কেট নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, লক্ষ্মীপুর এলাকায় ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাম কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কাজও বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ দিকে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলা এলাকায় ফোর লেন সড়কের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি রাজশাহী মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে তিগ্রস্ত সড়ক মেরামত কাজ চলছে। ওয়ার্ড-পর্যায়ে ড্রেন, রাস্তা ও ফুটপাথ নির্মাণকাজও চলছে সমানতালে। জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্ষা মৌসুমের আগেই বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাসিক। বিভিন্ন এলাকার ড্রেন থেকে কাদামাটি অপসারণ ও পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে। একই সাথে নগরজুড়ে বৃরোপণ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, রাজশাহীকে আরো সুন্দর, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করা হচ্ছে। নাগরিকদের সহযোগিতায় একটি পরিকল্পিত ও কাক্সিত মহানগরী গড়ে তোলাই ল্য।

হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি ও পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘদিন পর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি ফিরেছে। প্রশাসনের সক্রিয়তায় নগরবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে নাগরিকদের প্রত্যাশা, ঘোষণার পাশাপাশি চলমান উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে উন্নয়নের সুফল আরো স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে।