এইচ এম হুমায়ুন কবির কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
শীতের আগমনে পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা চর বিজয় এখন রঙিন অতিথি পাখির স্বর্গরাজ্যে রূপ নিয়েছে। হাজারো পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো দ্বীপ। মানুষের বাধাহীন পরিবেশের কারণে পাখিরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে চরটিকে বেছে নিয়েছে। শূন্যে ডানা মেলে ওড়াউড়ি, নীল জলে জলকেলি আর বালুচরে খাবার খুঁজে বেড়ানো- সব মিলিয়ে দ্বীপটিতে যেন পাখির মেলা বসেছে।
প্রায় পাঁচ হাজার একর আয়তনের দ্বীপটি কুয়াকাটা সৈকত থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। নভেম্বরের শুরু থেকে মার্চ পর্যন্ত এখানে আশ্রয় নেয় জুলফি পানচিল, গাঙ্গচিল, ধূসর মাথা টিটি, সিথি হাঁস, খুন্তে হাঁস, খয়রা চখাচোখি, পানকৌড়ি, বিভিন্ন প্রজাতির বক, সরালি, শামুকখোল, জলমোরগসহ অজস্র প্রজাতির পাখি। সাইবেরিয়াসহ দূরদেশ থেকে আসা এসব পাখি বালুচরে বিশ্রাম নেয়, পানিতে ডুব দিয়ে খাবার খুঁজে, আবার কখনো দলবেঁধে উড়ে বেড়ায় দ্বীপের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। একই সাথে চরজুড়ে দেখা যায় লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ।
পর্যটকদের মতে, চর বিজয় এখন কুয়াকাটার পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দিগন্তজোড়া আকাশ, নীল জলরাশি আর পাখির রাজ্যে ঘেরা দ্বীপটি দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে প্রতিদিনই। বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ২০১৭ সাল থেকে ম্যানগ্রোভ বীজ ও চারা রোপণ শুরু করেছে। এতে পরিবেশ ফিরে পাচ্ছে ভারসাম্য, আর চরটি ধীরে ধীরে সম্ভাবনাময় অভয়াশ্রমে পরিণত হয়ে উঠছে।
দ্বীপে ভ্রমণে আসা পর্যটক আরফাত হোসাইন বলেন, এমন বৈচিত্র্যময় পাখির সমাবেশ আগে কখনো দেখিনি। চর বিজয় সত্যিই অপার সম্ভাবনাময় এক দ্বীপ। আরেক পর্যটক আহসান হাবিব জানান, চরটিতে পর্যাপ্ত গাছ লাগানো হলে পাখিদের জন্য এটি হয়ে উঠবে স্থায়ী অভয়ারণ্য।
ট্যুরিজম ব্যবসায়ী জনি আলমগীর জানান, কুয়াকাটা থেকে চর বিজয় পৌঁছাতে ট্যুরিস্ট বোটে সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা। যাত্রাপথে সমুদ্রের সৌন্দর্য আর দ্বীপের কাছে পৌঁছাতেই পাখিদের উড়াউড়ি- সবই পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। তবে দ্বীপে দোকানপাট না থাকায় খাবার-পানীয় সাথে নিয়ে যেতে বলেন তিনি।
কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি হোসাইন আমির বলেন, শীত এলেই চর বিজয় পরিযায়ী পাখিতে ভরে যায়। এটি এখন জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। বর্ষায় পানিতে ডুবে থাকে আর শীতে বালুচরে জেগে ওঠে চর।
মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম মনিরুজ্জামান জানান, সুফল প্রকল্পের আওতায় বনায়ন জোরদার করা হচ্ছে। এতে চর বিজয় ভবিষ্যতে পাখিদের অভয়াশ্রম হিসেবে গড়ে উঠবে- এমনটিই আশা করা যায়।
প্রতিনিয়ত বাড়ছে পাখির সংখ্যা, বেড়েছে পর্যটকের ভিড়ও। প্রকৃতি, পাখি ও কাঁকড়ার অনন্য সমন্বয়ে চর বিজয় এখন পর্যটকদের জন্য শীতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যস্থল।



