প্রচারণায় সরগরম সিলেট-১ আসন

মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন হাবিব ও মুক্তাদির

সিলেট শহরজুড়ে ডিজিটাল বিলবোর্ড ব্যানার নজর কাড়ছে ভোটারদের

Printed Edition

সিলেট ব্যুরো

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন-সদর উপজেলা) আসনে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা জমে উঠেছে। বিরামহীনভাবে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। নগরীজুড়ে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন প্রার্থীর ডিজিটাল বিলবোর্ড ও ব্যানার। নগরের মোড়ে মোড়ে ঝুলছে বিএনপি, জামায়াতসহ আট প্রার্থীর ডিজিটাল ব্যানার। এসব ব্যানারে ‘চলো গড়ি একসাথে বাংলাদেশ’, ইনসাফ ও মানবিক দেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন, ‘তারেক রহমানের ৩১ দফাই মুক্তির নতুন পথ’ ইত্যাদি লেখা শোভা পাচ্ছে।

দেশের জাতীয় রাজনীতিতে সিলেট-১ আসনটি সবসময়ই গুরুত্ব বহন করে আসছে। প্রবাদ আছে, সিলেট-১ আসনে যে দল জিতে, সেই দলই সরকার গঠন করে। ফলে এ আসনে নজর থাকে পুরো দেশের মানুষের।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। অপর দিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন সিলেট জেলা আমির ও সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালের চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি এই আসনে প্রথমবারের মতো নির্বাচন করলেও নগরজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি থাকায় বেশ সাড়া ফেলেছেন। এক বছর ধরে শহর-গ্রাম চষে বেড়াচ্ছেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এই হেভিওয়েট প্রার্থী। ভোটের মাঠে বেশ শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন।

ফলে বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, উপশহর, কদমতলী, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, সুবিদবাজার ও মদীনা মার্কেটসহ নগরজুড়ে রয়েছে বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের ডিজিটাল বিলবোর্ড ও ব্যানার। এই দুই প্রার্থী ছাড়াও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) সঞ্চয় কান্ত দাসের কাঁচি মার্কাও।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের কাস্তে মার্কার ব্যানারসহ নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চোখে পড়ছে। তবে তুলনামূলক পিছিয়ে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসানের হাতপাখা, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেনের ট্রাক, বাসদের প্রণব জ্যোতি পালের মই ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো: শামীম মিয়ার আপেল মার্কার প্রচার প্রচারণা।

গত ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে পুরোদমে নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। প্রচারণায় বাড়তি আমেজ সৃষ্টি করেছে মাইকে বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনী গান, যা ভোটারদের বিনোদন জোগাচ্ছে ও মনোযোগ কাড়ছে। একাধিক পথসভা ও উঠান বৈঠক করছেন প্রার্থীরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নগর ঘুরে দেখা গেছে, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর ব্যানারে লেখা, চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ। সেখানে ইনসাফ ও ন্যায় সাম্যের সমাজ গঠনের কথাও বলা হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থীর ব্যানারে ইনসাফ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে ধানের শীষে ভোট দিন লেখা শোভা পাচ্ছে। এ ছাড়াও বিএনপির ৩১ দফা মুক্তির পথ লেখাও চোখে পড়ে।

প্রচারণার অংশ হিসেবে গতকাল দুপুরে আম্বরখানা এলাকায় গণসংযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ধানের শীষের প্রচারণায় খন্দকার মুক্তাদিরের স্ত্রী জাকিয়া ইয়াসমিনও মাঠে সরব রয়েছেন। নেতাকর্মীদের নিয়ে শহর গ্রাম চষে বেড়াচ্ছেন। এর আগে কায়েস্তরাইলে উঠান বৈঠক করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি সিলেটে শিল্প পার্ক ও আইটি হাব গড়ে তোলাসহ ভোটারদের নানা মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিভিন্ন পথ সভায় বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেয়াসহ নির্বাচিত হলে সিলেটের চেহারা বদলে দেবেন বলেও জানান এই প্রার্থী।

অপর দিকে নগরীর জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতি, বাদাম বাগিচা, নালিয়াবাজার ও খাদিম নগরে গণসংযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি সিলেট উইম্যান্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান।

এসব নির্বাচনী গণসংযোগে আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে নির্বাচিত করলে ইনসাফভিত্তিক মানবিক সমাজ উপহার দেবেন বলে ভোটারদের আশ্বস্ত করছেন।

এ ছাড়া রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নদী ভাঙন এলাকায় ভাঙন রোধ, ঢাকা-সিলেট যোগাযোগের ক্ষেত্রে সড়ক-রেল ও আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসারে কার্যকর ভূমিকা পালন করা, সিলেটের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়া ও জামায়াত সরকার গঠন করলে শুধু ছাত্রীদের জন্য পৃথক মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

প্রার্থীদের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ভোটের সময় ঘনিয়ে আসায় এখন প্রার্থীদের দম ফেলার ফুরসৎ নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তারা সভা, গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ভোটারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সবাই।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচন হবে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। প্রচারের তীব্রতা যত বাড়ছে, ততই জমে উঠছে ভোটের মাঠ।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নয়া দিগন্তকে বলেন, নির্বাচিত হলে সিলেটে আইটি হাব গড়ে তোলা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হবে।

জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, নির্বাচিত হলে সিলেটকে চাঁদাবাজমুক্ত নিরাপদ নগর গড়ে তোলা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাস্তবমুখী কার্যকর পদক্ষেপ নেব। সিলেটের উন্নয়নে যুগান্তকারী সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। জনগণ রায় দিলে ইনসাফ ও ন্যায়ের সমাজ গঠন করব ইনশাআল্লাহ।