নির্বাচিত সংসদের অধিকার ক্ষুণœ হয়েছে, তেলের দাম বাড়ানো জুলুম : ডা: শফিক

Printed Edition

সিলেট ব্যুরো

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেন, এত ভালো কাজ দিনের বেলা করলেন না কেন? আমি স্পষ্ট বলেছি, এটা জনগণের প্রতি সুবিচার করা হয়নি। এটা সরাসরি জনস্বার্থ বিরোধী।

পার্লামেন্টকে পাশ কাটিয়ে তড়িঘড়ি করে এটা করা হয়েছে। এতে নির্বাচিত সংসদের অধিকার ক্ষুণœ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিলেট শহরতলির বাদাঘাট এলাকায় নির্যাতনে নিহত শিশু ফাহিমার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম বাড়া মানে সরাসরি করের বোঝা জনগণের ঘাড়ে চাপানো। কারণ মালিকরা যখন ব্যবসা করে, বাড়তি পয়সা কি তাদের পকেট থেকে দেবে? তারা জনগণের কাছ থেকে এটা আদায় করবে। জনগণ সবাই গাড়ি চালায় না এবং সবাই ইন্ডাস্ট্রির মালিক না। কিন্তু জনগণ জিনিসপত্র কিনে খায়, ওই গাড়িচালক যারা, তাদের গাড়ির পরিবহনব্যয় বেড়ে যাবে, তখন জিনিসপত্রের দাম অটোমেটিক্যালি বাড়বে। অতএব ফকির থেকে আমির, ধনী থেকে গরিব, শিশু থেকে বৃদ্ধ, এই করের যন্ত্রণা সবার ঘাড়ে চাপছে।

জামায়াত আমির বলেন, একটু দরদ নিয়ে চিন্তা করা দরকার ছিল। এই কেবল গত মাসে তেলের দাম ৮ থেকে ১২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, আবার এক মাসের ব্যবধানে তিনটা আইটেমের ওপর ৫ টাকা করে দাম বাড়ানো হলো। এটা আসলেই জনগণের ওপর একটা জুলুম। আর তা যদি করতেই হয়, এই সামনে বাজেট অধিবেশন ছিল, সেখানে আমরা খোলামেলা কথা বলতে পারতাম। সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা কিভাবে ওয়ার্কআউট করা যায়, সেটা চিন্তা করতাম এবং বিগত অধিবেশনে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে, জ্বালানি ক্রাইসিস মোকাবেলার জন্য। সেই কমিটিতেও আলোচনা করা যেত। তার কিছুই সরকার না করে তড়িঘড়ি করে পাশ কাটিয়ে কাজ করেছে, এটা আমরা মনে করি, জনগণের সাথে একটা প্রতারণা।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের নির্বাচিত পার্লামেন্টের অধিকার ক্ষুণœ করা হয়েছে। সেখানে আলাপ করে সেটা করলে জনগণও তখন বুঝতো, তার কতটুকু করা দরকার। আর আলাপ যখন হতো, তখন ন্যায্য কথা সেখানে আলাপ হতো। সরকারও বাধ্য হতো ন্যায্যতার ভিত্তিতে চিন্তা একটা করতে, হয় সিদ্ধান্ত নিবে অথবা সরে আসবে। কিন্তু তা কিছু না করে, তাও দেখবেন, আবার জনগণ যাতে টের না পায়, গভীর রাতে। জনগণ যখন ঘুমিয়ে গেছে, তখন তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এত ভালো কাজ দিনের বেলা করলেন না কেন। তার মানে তারাও বুঝতে পারছেন, এটা ভালো কাজ না।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘ফাহিমা হত্যা মামলার বিচার যদি দীর্ঘসূত্রতার দিকে যায়, তাহলে আমরা ধরে নেব এই বিচার আর হবে না। রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের মতো ফাহিমা হত্যার বিচারও ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে সরকারকে এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ক্ষমতায় থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বিএনপি সরকারের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এটুকু বলা যায়, মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ ভালো নেই।

এর আগে সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলায় নিহত চার বছরের শিশু ফাহিমার পরিবারের সাথে দেখা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান এমপি। মঙ্গলবার (২ জুন) নিহত ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে তিনি শোকসন্তপ্ত বাবা-মায়ের সাথে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত¡না দেন এবং এ মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে আমিরে জামায়াতের সাথে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিলেট অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান ও সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।

এ সময় আমিরে জামায়াত বলেন, শিশু ফাহিমার ওপর সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনা পুরো জাতিকে ব্যথিত করেছে। তিনি বলেন, বিচারহীনতা এবং বিলম্বিত বিচারের কারণে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। ফাহিমার বিচার ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করে অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

পরিবারের সদস্যরা তাদের সন্তান হারানোর বেদনা ও ঘটনার বিভিন্ন দিক বিরোধীদলীয় নেতার কাছে তুলে ধরেন। তিনি তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আশ্বাস প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, অপহরণ, ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনায় নিহত শিশু ফাহিমা আক্তারের মৃত্যু দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটির বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি জানিয়ে আসা হচ্ছে।

তরুণ সমাজকে একাডেমিক উৎকর্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে গড়ে তুলতে হবে

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের (এমপি) সাথে ছাত্রশিবির সিলেট মহানগরের সেক্রেটারিয়েট সদস্যদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে নগরীর একটি মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজকে একাডেমিক উৎকর্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। জ্ঞান, দক্ষতা ও উন্নত চারিত্রিক গুণাবলির মাধ্যমে তরুণরাই একটি আদর্শ সমাজ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। তরুণ সমাজকে এভাবে গড়ে তুলতে ছাত্রশিবিরকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জনগণের সমর্থনে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও মূল্যবোধভিত্তিক রূপে পুনর্গঠন করবে।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, জামায়াতে ইসলামী সিলেট মহানগরের আমির ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলার আমির হাবিবুর রহমান, জেলার নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সিলেট মহানগরের সেক্রেটারি শাহজাহান আলী, ছাত্রশিবির শাবিপ্রবির সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন, সিলেট জেলা পূর্বের সভাপতি আবু আইয়ুব মঞ্জু ও সিলেট জেলা পশ্চিমের সভাপতি আবু জুবায়ের।