ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় পরিবেশ আইন তোয়াক্কা না করেই ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের মাসকান্দা (গলইখালী) এলাকায় বিশ্বরোড-সংলগ্ন নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই ভাটায় ফসলি জমির শ্রেণী পরিবর্তন না করেই মাটি ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের তি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা।
সরেজমিন দেখা যায়, ভাটায় ব্যবহারের জন্য ভ্যাকু মেশিন দিয়ে জমির ওপরের উর্বর মাটি ও বালু গভীর গর্ত করে তুলে নেয়া হচ্ছে। পরিবেশ অধিদফতরের নিয়ম না মেনে কয়লার বদলে দেদার পোড়ানো হচ্ছে কাঠের লাকড়ি। ফলে চিমনির কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে আশপাশের পরিবেশ। স্থানীয়দের দাবি, এই ইটভাটার কারণে এলাকার প্রায় ১০ হাজার একর বোরো জমির ফলন হুমকির মুখে পড়েছে। পলিমাটিযুক্ত মাটি দিয়ে তৈরি করা এসব নিম্নমানের ইট কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিনছে না, ফলে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকেই এসব ইট কিনতে হচ্ছে।
বেখইজুড়া গ্রামের কৃষক ইসমাইল ও ইব্রাহিম বলেন, ইটভাটার পাশেই আমাদের ৬০ একর বোরো জমি আছে। আগে যেখানে একরে ৪০-৫০ মণ ধান হতো, এখন ইটভাটার কারণে মাটির উর্বরতা কমে উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে। উল্টো রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের খরচ বেড়ে গেছে দ্বিগুণ। ভাটা সংলগ্ন মাসকান্দা ও আদর্শ গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা ও স্কুলগামী শিার্থীরা এই বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
ইটভাটার মালিক বিভো রায় জানান, ভাটাটি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের দেবেন বাবুর কাছে ভাড়া দিয়েছেন। তবে দেবেন বাবু জানান, লোকসানের কারণে তিনি এটি আবার তার ভাতিজার কাছে হস্তান্তর করেছেন। মালিকানার এই হাতবদল চললেও পরিবেশ রার দায় নিচ্ছে না কেউ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাহাত বলেন, ফসলি জমির আঙ্গিনায় ইটভাটা স্থাপনের কোনো নিয়ম নেই। কিসের ভিত্তিতে এর লাইসেন্স দেয়া হয়েছে, তা বোধগম্য নয়। এতে বোরো ফসল যেমন হুমকিতে, তেমনি পোকা-মাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ বেড়ে উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই ভাটাকে প্রথমবার এক লাখ ও দ্বিতীয়বার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।



