চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনপির চ্যালেঞ্জ বিদ্রোহী প্রার্থী, কৌশলী জামায়াত

Printed Edition
হারুনুর রশিদ, মাওলানা বিল্লাল হোসেন, এম এ হান্নান
হারুনুর রশিদ, মাওলানা বিল্লাল হোসেন, এম এ হান্নান

মুহাম্মদ ইলিয়াছ পাটওয়ারী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বেড়েছে নির্বাচনী উত্তাপ। উপজেলার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজার- সবখানে এখন জামায়াত ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচনই প্রধান আলোচ্য বিষয়। তবে বিএনপির আসন পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় দলের প্রার্থীর পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এখনো বিদ্রোহী প্রার্থী পক্ষের নেতাকর্মীরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তুলছেন জোরেশোরে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একসময় আসনটিতে বিএনপির স্থায়ী ভোটব্যাংক থাকলেও আওয়ামী লীগ তা ভেঙে ফেলেছে। বিদ্যমান বিএনপি কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে আসনটিতে বর্তমানে জামায়াতেরও নির্দিষ্ট একটি বড় ভোটব্যাংক তৈরি হয়েছে; যা বিএনপিকে চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে।

এ দিকে জনগণের আস্থা নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে জামায়াতে ইসলামী জেটগত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির বিভক্তিকে কাজে লাগিয়ে কৌশলে নিরবে কাজ করে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। তবে শেষ পর্যন্ত সব হিসাব-নিকাশ ফেলে লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। লড়াইয়ে কে জয়ী হবেন সেটি নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক দলের কৌশলগত অবস্থান।

আসনে মনোনয়ন বৈধতা পেয়ে প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা আমির মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হারুনুর রশীদ। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ হান্নান, গণফোরাম থেকে মুনীর চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আরিফ উল্যাহ, জাতীয় পার্টি থেকে মাহমুদ আলম।

তবে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া অন্য দলগুলোর প্রার্থীদের নির্বাচন উপলক্ষে এলাকায় দৃশ্যমান কোনো প্রচার দেখা যায়নি। ফলে সাধারণ ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জামায়াতের বিল্লাল মিয়াজী, বিএনপির আ: হান্নান ও হারুনুর রশিদ। ইতঃপূর্বে চাঁদপুর-৪ আসন থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে বেশ কয়েকবার। বেশির ভাগ সময় বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করায় এ আসনকে তাদের ভোটব্যাংক বলেই ধরা হচ্ছে। বিগত উপজেলা নির্বাচনে আ’লীগ-বিএনপি-জামায়াত একত্রে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামায়াতের ভাইস চেয়ারম্যান বিশাল ব্যবধানে জয় পান। ফলে আগামী নির্বাচনে এ আসনে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

এ দিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বই জামায়াতের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জামায়াত প্রার্থী জেলা আমির মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী বলেন, আমরা আমাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের সামনে তুলে ধরছি। আশা করছি, সৌহার্দপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে এ আসনকে আমরা সবার সামনে উদার ও সহনশীল রাজনৈতিক চর্চার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারব।

বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশিদ বলেন, দেশের মানুষ গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এবার তারা ভোট দিয়ে নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে নেবেন। আর সেই ভোটটি যাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতীক ধানের শীষে।

উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মঞ্জিল হোসেন বলেন, হারুনুর রশিদ গত ১৭ বছর নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন না। তারা প্রার্থী পরিবর্তন ছাড়া মাঠ ছাড়বেন না। বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার দাবি, এম এ হান্নান উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ত্যাগী নেতা। রাজপথ ও এলাকায় দুই জায়গাতেই তিনি জনপ্রিয়। এ দিকে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা জানান, সুষ্ঠু ভোট হলে তাদের জোটের প্রার্থী নির্বাচিত হবেন।