আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যুতে প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Printed Edition
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সচিবালয়ে বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী : নয়া দিগন্ত
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সচিবালয়ে বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মা ও শিশু হাসপাতালে ৭ নবজাতকের মৃত্যুতে রাষ্ট্র কর্তব্য কাজে অবহেলাকারীদের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল আদ্-দ্বীনে নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় করা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তদন্ত প্রতিবেদনের ফাইন্ডিংস হিসেবে বলা হয়েছে, পোস্ট অপারেটিভ রুমে বিকল্প ভেন্টিলেশন ছিল না বলে এসি বন্ধ করে দিলে অক্সিজেন সরবরাহ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং নবজাতকদের মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মে গভীর রাত থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নবজাতকদের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে এসি বন্ধ ও চরম অবহেলায় ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এটা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গতকাল বিকেলে রিপোর্ট জমা দেয়। তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আইনে যতটুকু কঠোর হওয়া সম্ভব, আমরা ততটুকুই যাব। এবার আর কাউকে মাফ করা হবে না। প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপরে গাফিলতি এবং দায়িত্বরত নার্স-স্টাফদের চরম অবহেলার প্রমাণ মিলেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে অপরাধ ও অবহেলা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। হাসপাতালটির যে পোস্ট অপারেটিভ রুমে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটি আমরা ইতোমধ্যেই সিলগালা করে দিয়েছি। তবে পুরো হাসপাতালে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকায় হুট করে তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। আমরা আগামী দুই দিন বন্ধের মধ্যে আইন খতিয়ে দেখব এবং আগামী রোববারের মধ্যে হাসপাতালটির বিষয়ে চূড়ান্ত ও কঠোর সিদ্ধান্তে পৌঁছাব।

হাসপাতালগুলোর এই লাগামহীন অব্যবস্থাপনা রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যেভাবে সচিব, ডিজি এবং প্রতিমন্ত্রীসহ সবাই মিলে আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম সাজাচ্ছি এবং যে ধরনের কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস ভবিষ্যতে আর কোনো হাসপাতাল কর্তৃপ এভাবে বদ্ধ ঘরে মানুষ বা শিশু রাখার দুঃসাহস দেখাবে না।

তিনি আরো জানান, বেসরকারি হাসপাতালের নতুন লাইসেন্স দেয়ার েেত্র এখন থেকে পরিবেশ অধিদফতরের পূর্বানুমতি ও ভবন পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তাদের সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। ছয় শিশুর মৃত্যুকে কেবল পেশাগত অবহেলা নাকি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটি নিশ্চিতভাবেই একটি মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ এবং এই ঘটনায় ইতোমধ্যেই মামলা হয়েছে। আবেগের কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনরা শিশুদের লাশ নিয়ে গেছেন। আসামিরা এটিকে আইনি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। তবে এটি রাতের আঁধারে ঘটা কোনো গোপন ঘটনা নয়, এটি শতভাগ প্রমাণিত সত্য। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিজ্ঞ আদালত আসামিদের কোনো ছাড় দেবেন না।

তদন্ত কমিটির বরাত দিয়ে মন্ত্রী জানান, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ২ নম্বর পোস্ট অপারেটিভ কটি মোটেও হাসপাতাল পরিচালনার উপযোগী ছিল না। ৯০০ বর্গফুটের ওই কে ধারণমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ছিল। দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা এবং কোনো বিকল্প ভেন্টিলেশন না থাকায় কটিতে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে যায়, যা নবজাতকদের পে সহ্য করা সম্ভব ছিল না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের নিয়ে আমরা একের পর এক জুম মিটিং করছি। আমাদের নির্দেশনা এবং ব্যবস্থাপনা দিন দিন কঠোর থেকে কঠোরতর হবে, যা আপনারা শিগগিরই মাঠে দেখতে পাবেন। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, অভিভাবকদের অভিযোগগুলো শুনেনি সংশ্লিষ্ট নার্স। কোনো চিকিৎসককে অবহিত করেনি অভিযোগের বিষয়ে এবং নবজাতকের মৃত্যু রোধে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেনি, শুধু কালক্ষেপণ করেছে। মন্ত্রী বলে, বিদ্যমান প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা একটি হাসপাতাল পরিচালনা করার প্রাথমিক শর্ত পালনেও সক্ষম ছিল না।