হাম উপসর্গে আরো দুই শিশুর মৃত্যু

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে বুধবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ ও গাইবান্ধা জেলায়। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

একই সময় নতুন করে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬৬ জনের, আর উপসর্গ মিলেছে ৮৭৫ শিশুর। এ ছাড়া নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৮৫ শিশু, আর সুস্থ হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৯৪ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৮০৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭১০ জন।

একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ২২৭ শিশুর। আর নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ১৫ হাজার ৭ শিশুর। মোট হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ২১৪ শিশু। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ তিন হাজার ৮৬৩ জন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে এক লাখ ১৮৮ জন। চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৬৬ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে ১০৯, রাজশাহীতে ৯২, ময়মনসিংহে ৬৯, চট্টগ্রামে ৬৬, বরিশালে ৬২, খুলনায় ৩১ ও রংপুর বিভাগে ১০ জন মারা গেছে।

সিলেট বিভাগে আরো ১ শিশুর মৃত্যু

সিলেট ব্যুরো জানায়, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত এই বিভাগে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ জনে।

সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুর নাম আরমান (২)। সে সুনামগঞ্জে জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে কোনো ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত না হলেও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৭১ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৪৮ জন।