আতিকুর রহমান ঝালকাঠি থেকে
ঝালকাঠির দু’টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী লড়াই ক্রমেই জমে উঠছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের তৎপরতায় দলটির দীর্ঘদিনের ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত আসন দু’টিতে পাল্টে যাচ্ছে ভোটের সমীকরণ। এ সুযোগ কাজে লাগাতে সক্রিয় হয়েছে জামায়াতসহ ইসলামী ও সমমনা জোট এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। ভোটের মাঠে নানা প্রতিশ্রুতি ও কৌশলে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চলছে। সংখ্যালঘু সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটকেও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় নিচ্ছেন প্রার্থীরা।
জেলায় দু’টি সংসদীয় আসন রয়েছে- ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) ও ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি)। ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল। তিনি ২০০৮ সালে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নেন। তাঁর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মঈন আলম ফিরোজী। একই আসনে ইসলামী ও সমমনা ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা ড. ফয়জুল হক, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদী, লেবার পার্টির ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং গণ অধিকার পরিষদের শাহাদাত হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। তার স্বামী ছিলেন জুলফিকার আলী ভুট্টো জাতীয় পার্টির নেতা। ২০০১ সালে নির্বাচনের আগে ইলেন ভুট্টো বিএনপিতে যোগ দিয়ে আমির হোসেন আমুকে হারিয়েই প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। তবে এবারের নির্বাচনে দলটির একটি অংশ তাঁর প্রার্থিতার বিরোধিতা করছে। তাঁদের অভিযোগ, ইলেন ভুট্টো আওয়ামী লীগপন্থী ও সুবিধাবাদী নেতাকর্মীদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে বিরোধী গ্রুপ বেশ শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। ওই গ্রুপটি দলীয় প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা থেকে দূরে রয়েছেন। এমনকি তার কার্মী-সমর্থকদের ভোট নিয়েও শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এ আসনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতের শেখ নেয়ামুল করিম, ইসলামী আন্দোলনের ডা: সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, এবি পার্টির শেখ জামাল হোসেন, জাসদ (জেএসডি) নেতা মাসুদ পারভেজ, গণ অধিকার পরিষদের মাইনুল ইসলাম সাগর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ রাজ্জাক আলী। তবে ভোটের মাঠে বিএনপি প্রার্থীর সাথে মূল লড়াইটি হবে জামায়াতের। এরই মধ্যে দলটি হিন্দু ভোটারদের কাছে ব্যপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
জানা যায়, ঝালকাঠির আসন দুটির একটিতে রাজনীতি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান চারবারের এমপি ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তমকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়ে আসছে। এর বাইরে কখনো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও জয় পেয়েছেন। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই দুই প্রভাবশালী নেতা ভোটের মাঠে নেই। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ৬ নভেম্বর গ্রেফতার হন আমির হোসেন আমু। ২১ নভেম্বর গ্রেফতার হন শাহজাহান ওমর। বিএনপি থেকে ঝালকাঠি-১ আসনে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত শাহজাহান ওমর ২০২৪ সালের নির্বাচনের কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, বিএনপির একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকা ও অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সে অনুযায়ী ইসলামী জোটের প্রার্থীদের কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।



