অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
সর্বোচ্চ সংশোধন বীমা খাতে
সূচক ও লেনদেনের উন্নতির মধ্য দিয়েই বিগত সপ্তাহটি পার করেছে দেশের পুঁজিবাজার। এ সময় দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মোট ২১টি খাতের মধ্যে ১৫টিতে কমবেশি মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে মূল্যস্তরে যে পরিবর্তন ঘটে তাতে ডিএসইর বাজার মূলধনে যোগ হয়েছে চার হাজার ৪৭৬ কোটি টাকার বেশি। গত সপ্তাহে এ খাতগুলো থেকে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের মুনাফার সামান্যই তুলে নিয়েছে। অন্য ৬টি খাতে সংশোধন ঘটা প্রমাণ করে এ কয়টি খাত থেকেই তারা তুলনামূলকভাবে বেশি মুনাফা তুলে নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
শবেবরাতের সরকারি ছুটির কারণে গত সপ্তাহে ডিএসইতে কার্যদিবস ছিল ৪টি। এর মধ্যে তিন দিনে সূচকের উন্নতি ঘটলেও শেষ কার্যদিবসে এসে বাজারে বড় ধরনের সংশোধন ঘটে। তা সত্ত্বেও বিদায়ী সপ্তাহটিতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮০ দশমিক ০৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। রোববার ৫ হাজার ১৫৪ দশমিক ৩১ পয়েন্ট থেকে সপ্তাহ শুরু করা সূচকটি বৃহস্পতিবার স্থির হয় পাঁচ হাজার ২৩৪ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৩১ ও ৩৭ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট।
সূচকের এ উন্নতি বাজারটির মূলধনে যোগ করেছে চার হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা। ছয় লাখ ৯৫ হাজার ৮১ কোটি টাকা মূলধণ নিয়ে সপ্তাহ শুরু করা বাজারটির মূলধণ সপ্তাহশেষে দাঁড়ায় ছয় লাখ ৯৯ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকায়। এ মূলধনের সবচেয়ে বেশি এসেছে ব্যাংকিং খাত থেকে। মূলধনের দিক থেকে এককভাবে খাতটি ডিএসইর বাজার মূলধনের ১৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ ধারণ করে। গত সপ্তাহে এ খাতটিতে মূল্যবৃেিদ্ধ ঘটেছে ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ যা বাজার মূলধনে যোগ করেছে সবচেয়ে বড় অঙ্ক। তবে এ সময় ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি ঘটে প্রকৌশল খাতে। খাতটির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় থাকা অন্য খাতগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল মিউচুয়াল ফান্ড, সিমেন্ট, ভ্রমণ ও বিনোদন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
অপর দিকে এ সময় সবচেয়ে বেশি মূলধন হারিয়েছে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো। গত সপ্তাহে এ খাতে ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ দরপতনের শিকার ছিল। এর পরেই রয়েছে জীবন বীমা কোম্পানিগুলো। তাদের দরপতন ঘটেছে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ। দরপতনে এর পরে ছিল যথাক্রমে টেলিকমিউনিকেশন, সেবা ও রিয়েল এস্টেট, করপোরেট বন্ড ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত।
সূচকের উন্নতির ফলে এ সময় ডিএসইর মূল্য-আয় অনুপাত (পিই) বেড়েছে ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত সপ্তাহশেষে ডিএসইর গড় পিই দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৭ যা আগের সপ্তাহে ছিল ৯ দশমিক ৩৩। সপ্তাহব্যাপী বেশির ভাগ খাতে মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্যস্তর বেড়ে গেলে মূল্য-আয় অনুপাতের এ পরিবর্তন ঘটে।
কর্মদিবস একটি কম থাকায় গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেন কিছুটা কম হয়। আগের সপ্তাহের দুই হাজার ৮৯৭ কোটি ১২ লাখ টাকার স্থলে গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেন ছিল দুই হাজার ৬৭২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তবে এ সময় বাজারটির গড় লেনদেন বৃদ্ধি পায়। আগের সপ্তাহের ৫৭৯ কোটি টাকার স্থলে গত সপ্তাহে ডিএসইর গড় লেনদেন ছিল ৬৬৮ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ১৫ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি।
গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল ব্যাংকিং খাতের ব্র্যাক ব্যাংক। এ সময় প্রতিদিন গড়ে ২১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে কোম্পানিটির যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ২০ শতাংশ দখলে রাখে। গড়ে ২০ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার বেচাকেনা করে এ সময় ডিএসইর লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে ছিল এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ। সপ্তাহিক লেনদেনে কোম্পানিটির অবদান ছিল ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ। এ সময় লেনদেনে ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ইসলামী ব্যাংক, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, সিটি ব্যাংক, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ফাইন ফুডস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ কোম্পানি ছিল ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স। কোম্পানিটির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৪৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ৪৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। এ সময় মূল্যবৃদ্ধিতে ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে এফএএস ফিন্যান্স, জিএসপি ফিন্যান্স, পিপলস লিজিং, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, বিআইএফসি, ফারইস্ট ফিন্যান্স, উত্তরা ফিন্যান্স ও প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।
গত সপ্তাহে ঢাকা শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষে ছিল ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। এ সময় ফান্ডটি ২১ দশমিক ৫৪ শতাংশ দর হারায়। ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ দর হারিয়ে বেসরকারি খাতের সাধারণ বীমা কোম্পানি এশিয়া প্যাসিফিক ছিল দরপতনের দ্বিতীয় স্থানে। দরপতনে ডিএসইর শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, রূপালি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, রহিম টেক্সটাইলস, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, রিলায়ন্স ইন্স্যুরেন্স ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ড, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ও মেঘনা ইন্স্যুরেন্স।



