নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর খুচরা বাজারে কিছু নিত্যপণ্যের দামে সামান্য স্বস্তি ফিরলেও বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের স্বস্তি মিলছে। বর্তমানে লেবু, শসা ও পেঁয়াজের মতো কিছু পণ্যের দাম কমলেও ব্রয়লার মুরগি, সোনালি মুরগি, চিনি ও বিভিন্ন মসলার দাম বেড়েছে। সেই সাথে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগও করছেন ক্রেতা বিক্রেতারা।
গতকাল রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ সময় দেখা যায় বাজারে বেশির ভাগ মাছ, সবজি ও গরুর গোশতের দাম আগের মতোই রয়েছে। মানভেদে প্রতি কেজি গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮২০ টাকার মধ্যে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের চেয়ে প্রায় ১০ টাকা কম। একইভাবে কাঁচা মরিচের দামও কিছুটা কমেছে। বর্তমানে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ, যা আগের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা কম।
রোজার শুরুতে লেবু ও শসার বাজার ছিল বেশ চড়া। ইফতারে শরবত তৈরিতে লেবুর ব্যাপক ব্যবহার এবং সালাদের প্রধান উপকরণ হওয়ায় শসার চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে রমজানের শুরুতেই এ দুই পণ্যের দাম অনেকটা বেড়ে যায়। সে সময় মানভেদে প্রতি হালি লেবু ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহেও প্রায় একই দাম ছিল। তবে চলতি সপ্তাহে এসে লেবুর দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে।
অন্য দিকে শসার দামও কিছুটা কমেছে। রোজার শুরুতে প্রতি কেজি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে। মিরপুর-১ নম্বর কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মাসুদ করিম বলেন, রোজার শুরুতে লেবু, শসা ও পেঁয়াজের চাহিদা অনেক বেশি ছিল। অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কিনে রাখায় পরে চাহিদা কমে যায়। ফলে এখন দামও কিছুটা কমে এসেছে।
মিরপুর-১১ নম্বর কাঁচাবাজারের আরেক সবজি বিক্রেতা শফি উদ্দিন জানান, বেশির ভাগ সবজির দাম আগের মতোই রয়েছে। তবে বেগুনের দাম কিছুটা কমেছে। সরবরাহ ভালো থাকায় সবজির বাজারে তেমন চাপ নেই।
তবে রোজার মাঝামাঝি সময়ে এসে বেড়েছে মুরগির দাম। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে।
বাজারে দেখা গেছে, বছরের শুরুতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। পরে বিভিন্ন সময় দাম বেড়ে ২০০ থেকে ২৩০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লারের দাম কিছুটা কমে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় নেমে এসেছিল। তবে চলতি সপ্তাহে আবারো বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২১০ টাকায়। একই সাথে সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে। এখন প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায়।
মিরপুর-১ নম্বর কাঁচাবাজারের মুরগি বিক্রেতা নুরউদ্দিন বলেন, রোজার সময় মুরগির দাম প্রায়ই ওঠানামা করে। আমরা সাধারণত কাপ্তান বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজার থেকে মুরগি কিনে আনি। বর্তমানে পাইকারি বাজারেই দাম বেশি, তাই খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।
আরেক বিক্রেতা জানান, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মুরগির দাম আরো বাড়তে পারে। কারণ অনেক পরিবার এখন থেকেই ঈদের জন্য মাছ-গোশত কেনা শুরু করেছে।
এদিকে বাজারে চিনি ও সুগন্ধি চালের দামও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুগন্ধি চালের দামও আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।
রমজানে ইফতার ও বিভিন্ন খাবারে ব্যবহৃত হওয়ায় মসলার বাজারও চড়া হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর কিছু পণ্যের দাম বেশি বেড়েছে। কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা বেড়ে আলুবোখারা বিক্রি হচ্ছে প্রায় এক হাজার টাকায়। এছাড়া জিরা, কিশমিশ ও বিভিন্ন ধরনের বাদামের দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। যদিও খুচরা পর্যায়ে তেলের দাম এখনো বাড়েনি, তবে অনেক দোকানে এক লিটার ও দুই লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
বিক্রেতাদের দাবি, ডিলাররা চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল সরবরাহ করছেন। ফলে খুচরা দোকানে সরবরাহ সঙ্কট তৈরি হচ্ছে।
মিরপুরের এক মুদি দোকানি মনোয়ার বলেন, বাজারে তেলের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। সরবরাহ কমিয়ে পরে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে। আবার কেউ কেউ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বা যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়েও দাম বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
এই ব্যবসায়ী বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে শুরু থেকেই কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। তা না হলে রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা আরো বাড়তে পারে।



