অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে শেরেবাংলায় বুলবুল

Printed Edition
অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে দাফতরিক কাজ শেষে বিসিবি পরিচালক ফাহিম, প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ও অধিনায়ক শান্ত’র সাথে বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সৌজন্য সাক্ষাৎ  : বিসিবি
অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে দাফতরিক কাজ শেষে বিসিবি পরিচালক ফাহিম, প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ও অধিনায়ক শান্ত’র সাথে বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সৌজন্য সাক্ষাৎ : বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

নিন্দুকদের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে তিনি আর দেশে ফিরবেন না, এমন গুঞ্জনে যখন সরগরম ছিল ক্রিকেটাঙ্গন, ঠিক তখনই তার দেশে ফেরা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুধু ফেরা নয়, ফিরেই সরাসরি ক্রিকেটারদের অনুশীলন পরিদর্শনে গিয়ে কার্যত একটি শক্ত বার্তাই দিয়েছেন তিনি। দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলনরত ক্রিকেটারদের সাথে সময় কাটান বুলবুল। কোচিং স্টাফদের সাথে আলাপ করেন, খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও প্রস্তুতি নিয়েও খোঁজখবর নেন। দীর্ঘ দিন পর বোর্ড সভাপতির এমন সরব উপস্থিতি অনেক প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে যারা মনে করেছিলেন, বোর্ডের চলমান অস্থিরতায় তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন- তাদের জন্য এটি স্পষ্ট জবাব।

তবে পরিস্থিতি মোটেও শান্ত নয়। জাতীয় সংসদে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বিসিবির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বোর্ডের প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনিয়ম এবং সাম্প্রতিক বিতর্ক, সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাতে বোর্ডের ভেতরের দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের প্রশ্ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সব মিলিয়ে এখন এক অস্থির সময় পার করছে দেশের ক্রিকেট। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বুলবুলের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি প্রশাসনিক উপস্থিতি নয়, বরং এটি তার অবস্থান শক্ত করার কৌশলও হতে পারে। সামনে বড় সিরিজ ও আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা থাকায় এখনই নেতৃত্বে পরিবর্তন এলে তা দলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মত তাদের।

সব মিলিয়ে, এক দিকে বোর্ড সভাপতির দৃঢ় প্রত্যাবর্তন, অন্য দিকে সরকারের পক্ষ থেকে তদন্তের চাপ, এই দুইয়ের টানাপড়েনে নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। এখন দেখার বিষয়, এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসতে বিসিবি কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।

দেড় মাসের ছুটি কাটিয়ে গত শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিডনি থেকে ঢাকায় পৌঁছান বিসিবি সভাপতি। এরপর গতকাল দুপুরে সাদা গাড়িতে চড়ে বুলবুল বিসিবি কার্যালয়ে গিয়েছেন। গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে স্বাগত জানান বিসিবির ইমাম। ইমামের সাথে করমর্দন শেষে বুলবুল নিজের দাফতরিক কাজ করেছেন। বুলবুলের পরিবার থাকে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের রাজধানী শহর মেলবোর্নে। জরুরি কাজে ১৬ ফেব্রুয়ারি পরিবারের কাছে গিয়েছিলেন বিসিবি। যাওয়ার আগে বিসিবি পরিচালকদের জানিয়ে গিয়েছিলেন বুলবুল। গুঞ্জন রটে, তিনি হয়তো দেশ ছেড়েছেন এবং সভাপতির পদ হারাতে যাচ্ছেন। তবে দেশে ফিরে তিনি প্রমাণ করলেন, এসব খবর একেবারেই ভিত্তিহীন।

সবশেষ নির্বাচনের পর থেকেই বিসিবিতে একধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। ক্লাব সংগঠকদের সাথে দ্বন্দ্বের জেরে থমকে আছে ঘরোয়া ক্রিকেট। কিছুদিন আগে তামিম ইকবালসহ প্রায় ৫০ জন ক্লাব সংগঠক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) গিয়ে বর্তমান বোর্ডকে অবৈধ দাবি করে দ্রুত নির্বাচনের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিসিবি নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে পাঁচ সদস্যের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এনএসসি। যদিও রমজান ও ঈদের ছুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেননি তারা। তবে দ্রুতই প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পর টানা দুই মাসে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), অদম্য টি-২০ কাপ আয়োজন করেছিলেন তিনি। সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়েছিল জাতীয় দল নিয়ে। বাংলাদেশের টি-২০ বিশ্বকাপে খেলা, না খেলা নিয়ে আইসিসি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাথে একাধিক সভা করতে হয়েছিল।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বুলবুলের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক ছিল। নির্বাচনের আগে তিনি নিজে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাছে কাউন্সিলরশিপ চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। অনলাইন ও ফোনে তিনি তদন্ত কমিটির সাথে যোগাযোগ রাখলেও ঢাকায় পৌঁছার পর সরাসরি সাক্ষাৎ করে বক্তব্য দিতে হবে তার। দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের সব কার্যক্রম দেখভাল করার পাশাপাশি আগামী ক’দিনে বুলবুলকে তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হতে হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে বোঝা যাবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বোর্ড সভাপতির ভূমিকা কতটা ছিল প্রশ্নবিহীন।