ভোলা প্রতিনিধি
ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটে তীব্র ফেরি-সঙ্কটে পারাপার ব্যাহত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তরমুজ চাষি ও ব্যবসায়ীরা। ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে যাত্রীবাহী বাসের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ জট সৃষ্টি হয়েছে। দুই থেকে তিন দিন ধরে সড়কে আটকে থাকায় গরমে কয়েক লাখ টাকার তরমুজে পচন ধরেছে। এতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের সহজ মাধ্যম। সরেজমিন দেখা যায়, ইলিশা ঘাটে তরমুজবোঝাই ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি। চরফ্যাসন উপজেলার চর কলমী ইউনিয়ন থেকে দুই হাজার তরমুজ নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে আসা কৃষক লোকমান জানান, তিন দিন ধরে ঘাটে বসে আছেন তিনি। প্রচণ্ড গরমে ট্রাকের ভেতরেই তরমুজ পচে পানি বের হতে শুরু করেছে। সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে তপর সব পুঁজি শেষ হয়ে যাবে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঘাটে যাত্রীবাহী বাসকে অগ্রাধিকার দেয়ায় তরমুজবোঝাই ট্রাকগুলো দিনের পর দিন অপেক্ষায় থাকছে। অথচ তরমুজ পচনশীল পণ্য হওয়ায় এটি দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো জরুরি। অনেক চালক জানান, সিরিয়াল পেলেও ফেরিতে উঠতে পারছেন না তারা। ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ১৯ হাজার ৭৫৩ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রায় সাত লাখ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কিন্তু পরিবহনের এই অচলাবস্থা চাষিদের মুখে হাসি কেড়ে নিয়েছে। বর্তমানে এই রুটে চারটি ফেরি চলাচল করছে, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
বিআইডব্লিউটিসির ইলিশা ঘাটের ব্যবস্থাপক কাওছার হোসেন বলেন, ঈদের কারণে বাসের চাপ বেশি থাকায় কিছুটা জট তৈরি হয়েছে। সঙ্কট নিরসনে এরই মধ্যে অতিরিক্ত আরো একটি ফেরি যুক্ত করা হয়েছে। তবে চাষি ও চালকদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দ্রুত ট্রাক পারাপারের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় কয়েক কোটি টাকার তরমুজ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।


