মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের রাজানীকান্দা এলাকায় ফড়িংখালী নদীর তীব্র ভাঙনে অন্তত ২৬টি পরিবার ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭-৮টি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
গতকাল সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, ফড়িংখালী নদী ক্রমেই বসতভিটার দিকে এগিয়ে আসছে। আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হক বলেন, ‘দীর্ঘ ১২ বছর অন্যের বাড়িতে থাকার পর কষ্ট করে এখানে ঘর তুলেছিলাম। এখন নদী সব কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে।’
আরেক বাসিন্দা ইউনুস আহমাদ বলেন, ‘একসময় তাদের বাড়ি থেকে নদী প্রায় ২০০ হাত দূরে ছিল। ধীরে ধীরে ভাঙতে ভাঙতে এখন বসতভিটার একেবারে কোলে চলে এসেছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস আগে উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হলেও তারা এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেননি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য টিটু মিয়া বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শুধু বাড়িঘর নয়, গোবিন্দশ্রী থেকে কদমশ্রী বেইন্নে বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে। স্থানীয় শিক্ষক মিলাদ হোসেনের মতে, সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অন্যথায় ঘরবাড়ির পাশাপাশি এলাকার পাকা সড়কও নদীতে চলে যেতে পারে।
গোবিন্দশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইদুল ইসলাম খান মামুন বলেন, নদীভাঙনে ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রাজানীকান্দার আরো অনেক পরিবার বাস্তুচ্যুত হবে।
এ বিষয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে কথা বলে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।



