ক্রীড়া প্রতিবেদক
নতুন ধাঁচের, নতুন দিগন্তের টেস্ট ক্রিকেটে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। যেখানে জয়ই শেষ কথা। গত কয়েক বছরে টেস্টে ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে টাইগাররা। পাকিস্তানকে টেস্টে তাদের মাঠেই হোয়াইটওয়াশ করেছে, জয় পেয়েছে জ্যামাইকাতে, জয় এসেছে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে। দারুণ স্মরণীয় সব জয়ের পর এবার ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে আরো একবার হারানোর সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। ১-০ তে এগিয়ে বাংলাদেশ। লক্ষ্যটা ২-০, হারলে নিশ্চিত সিরিজ ড্র।
শেষ টেস্টের আগের দিন অর্থাৎ গতকালও হয়েছে বৃষ্টি। পাকিস্তান ক্রিকেট দল ইনডোরে অনুশীলন করেছে। বাংলাদেশ দল অবশ্য গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে অনুশীলন করেছে। আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া শেষ ম্যাচেও কি বৃষ্টির প্রভাব থাকবে? সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হবে ম্যাচটি। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানা যায়, টেস্টের প্রথম দিন থেকে চতুর্থ দিন পর্যন্ত আবহাওয়া পক্ষে থাকবে না। শেষ দিনে দেখা মিলবে সূর্যের।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তান দলের ক্রিকেটাররা একে একে ঢুকছিলেন মূল স্কয়ারে। কয়েকজন ঝুঁকে উইকেট দেখলেন, কেউ আবার পায়ে চাপ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করলেন মাটির শক্তি! দলের কোচ সরফরাজ আহমেদ তো হেঁটেই গেলেন উইকেটের ওপর দিয়ে। ঠিক তখনই সেখানে হাজির বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। উইকেটের পাশে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কথা হলো দু’জনের। সেটি সম্ভবত উইকেট নিয়েই হবে। ব্যক্তিগত কুশলাদিও হতে পারে।
সিলেটের উইকেট সবুজে মোড়া যেন এক প্রতিশ্রুতি। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে পুরো আউটফিল্ডই পরিণত হয়েছে সবুজ গালিচায়। সেই রঙ ছড়িয়ে পড়েছে ২২ গজেও। উইকেটে এত ঘন ঘাস সচরাচর দেখা যায় না। দূর থেকে পিচকে মাঠের অংশই মনে হয়। ঘাস তো কিছুটা অবশ্যই ছাঁটা হবে, আজ টেস্ট শুরুর আগে সকালেও রোলার চলবে। তাতে উইকেটের সবুজ আবরণ কিছুটা হারাতে পারে বলেই আঁচ করা যাচ্ছে।
এমন উইকেট কি নতুন কিছু। না, তা বলা যাবে না। কারণ মিরপুর টেস্টে এমন উইকেটেই নিজেদের শক্তি খুঁজে পেয়েছে স্বাগতিকরা। পাকিস্তানের মাটিতে ২০২৪ সালে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্মৃতি এখনো টাটকা। এরপর গত মার্চে স্পোর্টিং উইকেটে ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে হারানো এবং মিরপুর টেস্টে দাপুটে জয়-সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন বুঝে গেছে, পেস ও বাউন্স থাকা উইকেটেও তারা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারে। সিলেটে তাই সেই আত্মবিশ্বাসেরই নতুন পরীক্ষা। আজ সবুজাভ উইকেটকেই বরণ করে নিবে বাংলাদেশ।
একটা বিষয় মনে রাখতে হবে। মিরপুরের উইকেট আর সিলেট এক নয়। মিরপুর যেখানে ধীরগতির এবং নিচু বাউন্সের জন্য পরিচিত, সেখানে সিলেটের স্বভাব বরাবরই একটু আলাদা। এখানে বল ব্যাটে দ্রুত আসে, বাউন্সও বেশি থাকে। ফলে শুরুতে ব্যাটসম্যানদের জন্য পরীক্ষা কঠিন হতে পারে। কিন্তু টিকে যেতে পারলে রান করার সুযোগও থাকবে। ব্যাটারদের টেকনিক, ধৈর্য আর শট নির্বাচনের বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে এই টেস্টে। বাংলাদেশ দলের অনুশীলনেও সেই প্রস্তুতির ছাপ স্পষ্ট। আউটার মাঠে ক্রিকেটাররা ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন করেছেন, সেখানেও ছিল ঘাসের আধিক্য। যেন মূল ম্যাচের আবহই তৈরি করা হয়েছে অনুশীলনে। সেটি স্বাগতিকদের জন্য যেমন অতিথিদের জন্যও একই হওয়ার কথা।
তবে সবচেয়ে বেশি নজর ছিল দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানাকে ঘিরে। মিরপুর টেস্টে দুর্দান্ত বোলিং করা এই দু’জন ওয়ার্ক লোডের কারণে গতকাল কোন বোলিং অনুশীলন করেননি। অনুশীলনের আগে ফুটবল খেলার সময় কোচ ফিল সিমন্স দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন তাসকিন ও নাহিদের সাথে। পরে নাহিদকে দেখা গেছে বোলিং বাদ দিয়ে ব্যাটিং গিয়ার পরে নেটে যেতে। মূল ম্যাচের জন্য দুই পেসারকে সতেজ রাখতেই এই পরিকল্পনা।
বুকের চোটে সিলেট টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন সাদমান ইসলাম। তার পরিবর্তে দলে এসেছেন জাকির হাসান। তবে একাদশে সুযোগ পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন তানজিদ হাসান তামিম। সব ঠিক থাকলে টেস্ট ক্যাপ পেতে যাচ্ছেন এই আগ্রাসী ওপেনার। অন্যদিকে ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই। আঙুলের চোট নিয়ে অনুশীলন করলেও ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে কি না, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। যদি জয় খেলতে না পারেন, তাহলে জাকিরের সুযোগ রয়েছে।
পেস আক্রমণেও বদলের আভাস স্পষ্ট। ওয়ার্কলোডের কারণে মিরপুর টেস্টে না খেলা শরিফুল ইসলামকে সিলেটে খেলানোর সম্ভাবনা প্রবল। অনুশীলনে বোলিং কোচ শন টেইটকে তার সাথে আলাদা করে কাজ করেছেন। শরিফুল ফিরলে মিরপুর টেস্টে নিষ্প্রভ থাকা ইবাদত বিশ্রামে যাবেন। মিরপুরের জয়ের উচ্ছ্বাস এখনও বাংলাদেশ দলের ভেতরে আছে। ঢাকায় ১০৪ রানে বড় জয়ে যেন আত্মতুষ্টিতে না ভোগেন। সতর্ক থাকতে হবে সেদিকটায়ও।



