বিএসএফ-বিজিবি বৈঠক ব্যর্থ, শূন্যরেখায় আটকা শিশুসহ ১০ জন

Printed Edition

বেনাপোল প্রতিনিধি

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু দ্বিতীয় দিনের মতো ভারত-বাংলাদেশ শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। এ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে আতঙ্ক, ক্ষুধা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার গভীর রাতে কাঁটাতারের গেট খুলে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবি তা প্রতিহত করে। এরপর থেকে তারা বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর মাঠ এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ জিরো লাইনে অবস্থান করছেন।

একটি সূত্র জানায়, এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় কয়েকটি ট্রাকে অতিরিক্ত ফোর্সসহ প্রায় ১২০ জনকে সীমান্তে আনে বিএসএফ। পরে তাদের কয়েকটি দলে ভাগ করে ১০ থেকে ১২ জন করে সীমান্তে নেয়া হয়। প্রথমে শার্শা উপজেলার বেনাপোল সাদিপুর-রঘুনাথপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবির বাধার মুখে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

পরে রাতভর আশপাশের কয়েকটি কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। ওই সময় সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকার সার্চলাইটগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে বিজিবির টহল দল সতর্ক থাকায় সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে রাত ৩টার দিকে কাঁটাতারের গেটের এপারে ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে ঠেলে পাঠানো হলেও তারা এখনো ভারতের ভূখণ্ডে একটি গাছের নিচে অবস্থান করছেন।

এ ঘটনায় বেনাপোলসহ আশপাশের সীমান্ত এলাকায় বিজিবি জনবল ও সতর্কতা বাড়িয়েছে। একই সাথে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করা হয়েছে।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় বিএসএফ-বিজিবির মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকটি কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু দ্বিতীয় দিনের মতো বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর মাঠের ভারত-বাংলাদেশ জিরো লাইনে অবস্থান করছেন।