জাকির হোসেন সৈয়দপুর (নীলফামারী)
নীলফামারীর সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি এখন ময়লা-আবর্জনা আর তীব্র পরিবেশ দূষণে নিজেই যেন এক ‘অসুস্থ’ রোগীতে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক তদারকির অভাবে এই অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানটির আজ করুণ দশা। হাসপাতালের যত্রতত্র মেডিক্যাল বর্জ্যসহ সাধারণ ময়লা ফেলে রাখায় চার দিকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা চার পাশের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন এবং খোদ হাসপাতালে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চরম সঙ্কটের কারণেই মূলত এই বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন হাসপাতাল চত্বর ঘুরে দেখা যায়, পুরো ক্যাম্পাস-জুড়ে দীর্ঘদিনের স্তূপীকৃত ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। বিশেষ করে ভবনের কার্নিশ এবং নিচের খালি জায়গায় পচনশীল বর্জ্য জমে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বৃষ্টির পানি জমে এই বর্জ্যগুলো আরো পচে গিয়ে মাছি ও রোগ-জীবাণু ছড়ানোর প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালের ভেতরের ওয়ার্ডগুলোর মেঝে ও দেয়ালে পানের পিক, বিভিন্ন খাবার ও ফলের খোসা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, সাধারণ আবর্জনার সাথে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, নিডল, ব্যবহৃত তুলা, গজ ও ডায়াপারের মতো ক্ষতিকর মেডিক্যাল বর্র্জ্যও মিশে আছে। একমাত্র ডাস্টবিনটি উপচে পড়ে চার পাশে ময়লা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর অভিভাবক ও স্থানীয় কলেজের প্রভাষক ফরিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ অত্যন্ত নাজুক ও অস্বাস্থ্যকর। টয়লেটগুলো নোংরা, কার্নিশগুলোতে মেডিক্যাল বর্জ্য ঝুলছে, যা পচে দুর্গন্ধ ও মাছি ছড়াচ্ছে। প্রবেশপথের দুই পাশে পানি জমে মশার স্বর্গরাজ্য তৈরি হয়েছে। ফলে রোগী সুস্থ হওয়ার বদলে আরো নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন থেকে আসা নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর মা আয়শাও একই অভিযোগ করে বলেন, সিট না পেয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। এখানে তীব্র দুর্গন্ধ আর ধুলাবালি। তার ওপর বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে নেবুলাইজার ও অক্সিজেন দিতেও চরম ব্যাঘাত ঘটছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: নাজমুল হুদা জানান, নিজস্ব ময়লা শোধনাগার না থাকা এবং পৌরসভা থেকে নিয়মিত আবর্জনা অপসারণ না করার কারণে এই বিড়ম্বনা তৈরি হয়েছে। আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তীব্র সঙ্কটে রয়েছে। এর মধ্যেও আমরা ভেতরের পরিবেশ ঠিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। তবে বাইরের বর্জ্য সরাতে পৌরসভার সহযোগিতা জরুরি।



