সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
নীলফামারীর সৈয়দপুর বাজারে সরকারি জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। এক জায়গাতেই একাধিক ভবন তৈরি করা হচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে নির্বিকার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। ফলে কোনো রকম বাধা না থাকায় তাদের দেখে অন্যরাও সরকারি জমি দখলে ও ভবন নির্মাণে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। সচেতন এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করলেও থামছে না এই অবৈধ দখল কার্যক্রম। তাদের অভিযোগ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এভাবে সরকারি সম্পত্তিতে বেআইনি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া বাজার এলাকায় গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের পশ্চিম পাশের সরকারি (খাস) জমিতে একটি দোকানঘর নির্মাণ করছেন ওই বাজারের সাবেক ইজারাদার মৃত জিকরুল হকের ছেলে স্থানীয় ব্যবসায়ী বুলবুল। একই সাথে পলাশ নামে আরেক ব্যবসায়ী বিশাল জায়গা দখল করে আরেকটি স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করছেন। আর বাজারের মাছের দোকানের সেডের দেয়াল দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের জন্য ঘিরে রেখেছেন গৌতম নামে একজন।
বাজারের জায়গায় আরসিসি পিলার স্থাপন করে ভবন নির্মাণের ব্যাপারে বুলবুল বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন থেকে ওই জায়গাসহ তিনটি দোকান লিজ নিয়ে ব্যবসা করে আসছি। এবারও দোকানগুলো বরাদ্দ নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেছি। এ সংক্রান্ত চিঠি ইতোমধ্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসেও যাওয়ার কথা। সেই চিঠির ভিত্তিতেই আমরা পাকা স্থাপনা তৈরি করছি। এ ক্ষেত্রে ওয়ার্ড মেম্বার, চেয়ারম্যান বা তহশিলদারের অনুমতির তো প্রয়োজন নেই।’
বুলবুল দাবি করেন, ‘এভাবেই বাজারে অনেক দোকানঘর গড়ে উঠেছে। সেগুলো যদি অবৈধ না হয় তাহলে আমারটা কেন অবৈধ হবে? যদি অবৈধই হয় তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু গত একমাস যাবত ঘরটি তৈরির কাজ চলছে, কেউ তো আসেনি আমাকে বাধা দিতে।’
বিশাল জায়গায় দখল করে পলাশ রায় নামে আরো একজন স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার দেখা পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী জানান, ‘সরকারি জমিতে বাড়ি করা যাবে না এমন তো নয়। তিনি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, বরং যদি নিষেধ থাকত তাহলে বাজারে আরো কেন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে? প্রশাসন এসেই বাধা দিয়ে বন্ধ করে দিতো অথবা আইনগত ব্যবস্থা নিতো। কিন্তু কেউ তো আসেনি এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিতে। সাংবাদিকদের এখানে কী?’
মাছ বাজারের শেডের দেয়াল দখল করে প্রাচীর তৈরি করছেন গৌতম রায়। বিষয়টি জানতে তার বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার ছেলে জানান, ‘শেডটি অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে। এখানে মাদকাসক্তদের উপদ্রব হয়। তাই ঘরের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা শেডের দেয়ালে ইটগেঁথে প্রাচীর তৈরি করেছি। এতে কী সমস্যা? মেম্বার-চেয়ারম্যান, বাজারের ইজারাদারসহ এলাকার সবাই জানে। তাদের কোনো সমস্যা হয় না, শুধু সাংবাদিকদেরই যত আপত্তি?’
কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের তহশিলদার তাবাস্সুম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে আসতে বলেছি এবং যথানিয়মে সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যারকেও রিপোর্ট করেছি। টাকার বিনিময়ে মৌখিকভাবে এসব কাজ করার অনুমতি দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ এভাবেই বলে। আসলে এ রকম কিছু নয়। বরং কাজ বন্ধ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষায় আছি। প্রয়োজনে নোটিশ দিয়ে এবং মামলা করার মতো আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর বদলিজনিত অনুপস্থিতির কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহা ফাতেমা তাকমিলার সাথে মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।



