ইংলিশ মিডফিল্ডারদের নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ব্রিটিশ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের রেকর্ড দুবার ভেঙেছে। প্রথমে নটিংহ্যাম ফরেস্ট থেকে ১১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন। এরপর অ্যাস্টন ভিলা থেকে ১১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে চেলসিতে পাড়ি জমান মরগান রজার্স। মাত্র ২৩ বছর বয়সী এই দুই ইংলিশ মিডফিল্ডারকে ঘিরে এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত মৌসুমে অ্যান্ডারসন ছিলেন নটিংহ্যাম ফরেস্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরমারদের একজন। প্রিমিয়ার লিগে তিনি সর্বোচ্চ তিন হাজার ৩০০ বার বল স্পর্শ করেন। পাশাপাশি দ্বৈরথে জয়, বল পুনরুদ্ধার, প্রতিপরে ফাউল আদায় এবং সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে সফল পাসের সংখ্যাতেও ছিলেন সবার ওপরে। চারটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্টের পাশাপাশি ৫৪টি সুযোগ তৈরি করে তিনি আক্রমণ ও রণ দুই দিকেই নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেন। বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে আট ম্যাচের সাতটিতে শুরুর একাদশে খেলেন তিনি।

অন্য দিকে মরগান রজার্স গত মৌসুমে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৫ ম্যাচে ১৪ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট করেন। আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে তিনি ১০ নম্বর পজিশন ও বাঁ প্রান্ত দুই জায়গাতেই সমান দ। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মিডফিল্ডারদের মধ্যে প্রতিপরে বক্সে বল স্পর্শের দিক থেকে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। প্রিমিয়ার লিগে ১৬টি গোলে সরাসরি অবদান রেখে ইউরোপের অন্যতম কার্যকর মিডফিল্ডারে পরিণত হন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ফুটবলে ঐতিহ্যবাহী স্ট্রাইকারের গুরুত্ব কিছুটা কমে যাওয়ায় এখন সৃজনশীল ও গোলমুখী মিডফিল্ডারদের চাহিদা বেড়েছে। একই সাথে প্রিমিয়ার লিগের ‘হোম গ্রোন’ নীতির কারণে ইংল্যান্ড বা ওয়েলসে গড়ে ওঠা ফুটবলারদের জন্য কাবগুলো অতিরিক্ত মূল্য দিতেও প্রস্তুত থাকে। এ দিকে ইংল্যান্ডের আরো দুই তরুণ মিডফিল্ডার অ্যাডাম ওয়ার্টন ও অ্যালেক্স স্কটকে নিয়েও আগ্রহ বাড়ছে। বোর্নমাউথ ইতোমধ্যে স্কটের জন্য চেলসির ছয় কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। অন্য দিকে ওয়ার্টনকে নিয়ে লিভারপুল, চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটির আগ্রহের খবরও রয়েছে। ফুটবল অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ কিয়েরান ম্যাগুয়ারের মতে, বর্তমান ট্রান্সফার ফি যতটা বড় মনে হচ্ছে, বাস্তবে কাবগুলোর আয়ের তুলনায় তা অস্বাভাবিক নয়। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের একটি কাবের গড় আয় ছিল ৯৩ লাখ পাউন্ড। তখন অ্যালান শিয়ারারের ৩৩ লাখ পাউন্ডের দলবদল ছিল গড় আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ। বর্তমানে একটি প্রিমিয়ার লিগ কাবের গড় আয় প্রায় ৩৪ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড, যার ৩৫ শতাংশ প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড—অ্যান্ডারসন ও রজার্সের দলবদলের অঙ্কের কাছাকাছি। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, কাবগুলো বেপরোয়া হয়ে নয়, বরং আর্থিক সমতা বাড়ার কারণেই এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে।