১২ মার্চ বসছে সংসদ

স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে, ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ উপস্থাপন হবে

Printed Edition
জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ
জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বসছে- এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ উপস্থাপন, শোক প্রস্তাব এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ থাকবে।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সংসদ সচিবালয়ের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর দফতর হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে; সংবিধান ও প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে অধিবেশন আহ্বান করবেন।

সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কেন ১৫ দিন আগে প্রজ্ঞাপন : জাতীয় সংসদ ভবনকেন্দ্রিক আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অধিবেশন আহ্বানের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১৫ দিন আগে প্রজ্ঞাপন জারি করার বিধান আছে। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময়রেখা মেনেই ১২ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম অধিবেশন হওয়ায় প্রশাসনিক প্রস্তুতিও বেশি- সদস্যদের শপথ, আসন বিন্যাস, স্থায়ী কমিটি গঠন, অধ্যাদেশ বিল আকারে তোলা- সব মিলিয়ে এটি কার্যত ‘ফাউন্ডেশন সেশন’।

প্রথম দিনের সম্ভাব্য কর্মসূচি : মন্ত্রী যে রূপরেখা দিয়েছেন, তা থেকে সম্ভাব্য এজেন্ডা দাঁড়াচ্ছে- স্পিকার নির্বাচন; ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন; অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ উপস্থাপন; শোক প্রস্তাব; রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও নৈমিত্তিক কার্যক্রম।

সংসদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পিকার ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; কক্ষ পরিচালনা, রুলিং, বিরোধী দলের সময় বণ্টন- সব ক্ষেত্রেই তাদের ভূমিকা রাজনৈতিক ভারসাম্য নির্ধারণ করে।

অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ : আইনে রূপ নাকি বাতিল : অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো এই অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেগুলো বিল আকারে পাস না হলে বিলুপ্ত বা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।

আইন বিশ্লেষকদের মতে, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে থাকতে পারে- প্রশাসনিক পুনর্গঠন; নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট বিধান; নির্বাচন ও সংস্কার কমিশন-সংক্রান্ত ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক বা নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন। এর ফলে প্রথম অধিবেশনই হয়ে উঠতে পারে ‘আইনগত বৈধতা’ দেয়ার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।

নতুন সরকারের রাজনৈতিক বার্তা কী : প্রথম অধিবেশন থেকেই তিনটি বার্তা স্পষ্ট হতে পারে- ১. প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা প্রতিষ্ঠা : অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার অধ্যাদেশগুলো সংসদে এনে আইনগত অনুমোদন নেয়া- নতুন সরকারের ধারাবাহিকতা জোরদার করবে।

২. সংসদকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা : নির্বাহী সিদ্ধান্তের বদলে সংসদে বিতর্ক ও ভোটের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণ-গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার ইঙ্গিত।

৩. প্রশাসনিক পুনর্গঠন : পুলিশসহ আমলাতন্ত্রে পরিবর্তন- ক্ষমতার বাস্তব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্পিকার নির্বাচনেও দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রতিফলন ঘটবে। তবে বিরোধী দলকে কতটা স্পেস দেয়া হয়-সেটিই সংসদের কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ : নীতি-দিকনির্দেশনার মঞ্চ : প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে সাধারণত সরকারের নীতিপত্র হিসেবে ধরা হয়। অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, পররাষ্ট্রনীতি, সংস্কার কর্মসূচি- সবকিছুর রূপরেখা সেখানে উঠে আসবে।

এবারের ভাষণে সম্ভাব্য অগ্রাধিকার হতে পারে- প্রশাসনিক সংস্কার; আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থা; অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার; আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সংসদীয় সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

চ্যালেঞ্জ কোথায় : যদিও অধিবেশন আহ্বানকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবু সামনে রয়েছে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ- অধ্যাদেশ পাসে রাজনৈতিক সমঝোতা; বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; পুলিশ সংস্কারে বিতর্ক এড়ানো; আইন প্রণয়নে গতি ও মানের ভারসাম্য এবং জনআকাক্সক্ষা বনাম বাস্তব সক্ষমতা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, “প্রথম অধিবেশনেই বোঝা যাবে সংসদ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নাকি বাস্তব ক্ষমতার কেন্দ্র হবে।”

১২ মার্চের অধিবেশন কেবল একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়- এটি নতুন রাজনৈতিক পর্বের সূচনা। স্পিকার নির্বাচন থেকে অধ্যাদেশের বৈধতা, পুলিশ প্রশাসনে রদবদল থেকে রাষ্ট্রপতির নীতিবক্তব্য-সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম সেশনই নির্ধারণ করবে নতুন সরকারের শাসনধারার দিকনির্দেশ।

পর্যবেক্ষকদের মতে, “এই অধিবেশনেই ঠিক হবে- সংসদ কি হবে বিতর্কের মঞ্চ নাকি শুধু অনুমোদনের কেন্দ্র।”

স্পিকার ডেপুটি স্পিকার কে কোন দল থেকে হচ্ছেন : ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দ্রুত সরকার গঠন ও শপথ প্রক্রিয়া শেষ হলেও সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর আগে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শূন্যতা ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে বিরল সাংবিধানিক পরিস্থিতি। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করে আত্মগোপনে এবং ডেপুটি স্পিকার কারান্তরীণ থাকায় প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কে- এই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে। ৭২(৬) অনুচ্ছেদের ধারাবাহিকতা এবার কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে, কারণ নতুন স্পিকার দায়িত্ব নেয়া পর্যন্ত পূর্ববর্তী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার বহাল থাকার বিধান থাকলেও বর্তমানে দুই পদই শূন্য। এমন বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি কোনো একজন সংসদ সদস্যকে অধিবেশন পরিচালনার জন্য দায়িত্ব দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, বিরোধী দলের সাংবিধানিক অবস্থান নির্ধারণ এবং সংসদের প্রাথমিক আইনগত কাঠামো গঠনের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রথম বৈঠকেই সদস্যদের মধ্য থেকে এ দু’টি পদে নির্বাচন বাধ্যতামূলক। একই সাথে ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন, যার ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব ও আলোচনা হবে। কিন্তু এবার ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৫(১) ধারা সামনে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি একজন সদস্যকে মনোনীত করতে পারেন, যিনি প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন এবং শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। অনেক সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির এই মনোনয়নই তাৎক্ষণিক সমাধান হতে পারে। তবে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি চাইলে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শও নিতে পারেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো আইনি বিতর্কের অবকাশ না থাকে। আইনজীবী ও বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে এমন নজির না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতি সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে কারা আসতে পারেন, তা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। স্পিকার হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নাম শোনা যাচ্ছে। অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আইনাঙ্গনে পরিচিত মুখ। বরিশাল-৩ আসন থেকে তিনি এবার নির্বাচিত হন। অন্য দিকে ড. আব্দুল মঈন খান নরসিংদী-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। স্পিকার হিসেবে তাদের দু’জনের নাম উচ্চারিত হলেও জয়নুল আবেদীনের স্পিকার হওয়ার বেশি সম্ভাবনা দেখছেন একটি পক্ষ।

এ দিকে এবারই প্রথম দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ হচ্ছে। উভয়কক্ষের ডেপুটি স্পিকার হওয়ার কথা বিরোধীদল থেকে। উচ্চকক্ষের গঠন নিয়ে রাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি হলেও নি¤œকক্ষের স্পিকারের পাশাপাশি ডেপুটি স্পিকারও আগামী ১২ মার্চ নির্বাচিত হওয়ার কথা। বিএনপি জোট সরকারি দলে থাকায় প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী থেকে ডেপুটি স্পিকার হচ্ছেন বলে আলোচনায় রয়েছে। সে ক্ষেত্রে পাবনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন ও ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানের নাম উঠে আসছে এই পদে। দুইজনই ব্যারিস্টার, রাজনীতি ও আইনঙ্গনের পরিচিত মুখ। একজন সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে, অন্যজন দেশের অন্যতম শিল্পোদ্যোক্তা মীর কাসেম আলীর ছেলে। যিনি আবার বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দীর্ঘ সময় গুম ছিলেন।

সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে জামায়াতের তরুণ এই দুই এমপির নাম আলোচনায় আসার পাশাপাশি আরেকটি নাম গুঞ্জন হচ্ছে। বিএনপি জোটের শরিক দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) থেকে নির্বাচিত ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থকেও এ পদে বসাতে পারে বিএনপি। বিএনপির এই পক্ষের যুক্তি পার্থ বিএনপি জোটের হলেও নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করেছেন। তবে এটি হলে রাজনীতিতে নতুন সঙ্কট সৃষ্টি হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাদের বক্তব্য, বিএনপি জোটের নুরুল হক নুর গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। এমপি হওয়ার পর তাকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। একই জোটের নেতা হিসেবে পার্থকে যদি ডেপুটি স্পিকার করা হয় তাহলে প্রশ্ন সৃষ্টি হবে। এটা অনেকটা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাতীয় পার্টির মতো অবস্থা সৃষ্টি হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ জাতীয় পার্টিকে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেয়ার পাশাপাশি বিরোধী দলের আসনেও বসিয়েছিল আওয়ামী লীগ।

উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েন থাকলেও একটি বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছে- দ্বিকক্ষ যেভাবেই গঠিত হোক, উভয় কক্ষেই বিরোধী দলের জন্য ডেপুটি স্পিকারের পদ সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি, এস্টিমেটস কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতিত্বও আসন অনুপাতে বিরোধী দল পাবে। এতে সংসদীয় ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ দিকে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করে সংসদকে পূর্ণাঙ্গ করার প্রস্তুতিও এগোচ্ছে। সাধারণ আসনের আনুপাতিক হারে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে সদস্য নির্বাচন হবে। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সর্বাধিক নারী আসন পেতে পারে; দ্বিতীয় বৃহত্তম দল জামায়াতে ইসলামীও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন পাবে। তফসিল ঘোষণার দুই সপ্তাহের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে, কারণ এসব আসনে সরাসরি ভোট নয়, নির্বাচিত সদস্যরাই ভোটার।

প্রথম অধিবেশন ঘিরে আইন প্রণয়নের প্রাথমিক কাঠামোও নির্ধারিত হবে। নির্বাচন-পূর্ব জারি করা অধ্যাদেশ অনুমোদন, প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু এবং স্থায়ী কমিটি গঠন- এসব প্রক্রিয়া শুরু হবে অধিবেশনেই। ৬৮টি আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী বড় বিরোধী দল হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে; তাদের মনোনীত নেতা ও উপনেতার নাম স্পিকার নির্বাচনের পর গেজেট আকারে প্রকাশ হবে।

সব মিলিয়ে ১২ মার্চের অধিবেশন শুধু আনুষ্ঠানিক সূচনা নয় বরং সাংবিধানিক ব্যাখ্যা, নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সংসদীয় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে যাচ্ছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা ও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তার সমাধানই নির্ধারণ করবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি কতটা মজবুত হবে।