পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসব শুরু

Printed Edition
পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসব শুরু
পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসব শুরু

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বর্ণিল উৎসব আনন্দে পার্বত্য জেলাগুলোতে শুরু হয়েছে বাংলা বর্ষবরণ। বিভিন্ন উপজাতি সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ রাঙ্গিয়ে তুলেছে এসব উৎসব।

বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানে শুরু হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব সাংগ্রাই। স্বচ্ছ পানির ধারা ধুয়ে মুছে দিবে অতীতের সব দুঃখ গ্লানি। নতুন বছর বয়ে আনবে অনাবিল শান্তি সমৃদ্ধি। এই প্রত্যাশা নিয়ে মারমা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ নানা রঙে নানা সাজে সেজে উৎসবে অংশ নিয়েছে। বর্ষবরণ উপলক্ষে সোমবার সকালে বান্দরবান শহরের ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে শুধু মারমা সম্প্রদায় নয় ১১টি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ সবাই একসাথে এই শোভাযাত্রায় ঐতিহ্যবাহী পোশাক পড়ে নানা সাজে সেজে অংশ নেয়। বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য রাজপুত্র সদস্য সাচিং প্রু জেরী। এ সময় তার সাথে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু তালেব, রাজপুত্র সাচ প্রু সহ উৎসব উদযাপন কমিটি ও মারমা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শোভাযাত্রা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ১১টি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ অংশ নেওয়ায় পুরো শহর হয়ে উঠে বর্ণিল।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসব বৈসুর মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ত্রিপুরা পঞ্জিকা অনুযায়ী চৈত্র মাসের ২৯ তারিখে এই আয়োজন করা হয়। এ দিন ভোরে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ শিশুরা ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঘরদোর পরিষ্কার করে, গোসল করে তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক আশাক, গয়না পরিধান করে নদী ছড়া খালে গিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করে। চৈত্রের ভোরের প্রথম আলোয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক রিনা-রিসাই পরিধান করে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসাতে জড়ো হন ত্রিপুরা নারীরা।

বাহারি রঙের ফুল, কলাপাতায় সাজিয়ে মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালিয়ে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে নিবেদন করে পুরাতন বছরকে বিদায় জানায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নেয়। এ সময় তরুণীরা নিজেদের হাতে তৈরি করে আনা ছোট ছোট রিসা বা ওড়না ফুলসহ পানিতে ভাসিয়ে দেয়। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ছড়ার পানিতে হই হুল্লোড় করে, একে অপরকে পানিয়ে ছিটিয়ে বড়দের সাথে আনন্দে মেতে উঠে।

ঐতিহ্যকে ধারণ করে সোমবার সকালে বৈসু উপলক্ষে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের উদ্যোগে জেলা শহরের পল্টন জয় এলাকায় আয়োজিত বৈসুর আনুষ্ঠানিকতায় উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার সহধর্মিণী ও জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জানাত বীথি। এ সময় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার ও ত্রিপুরা সংসদের সভাপতি কমল বিকাশ ত্রিপুরা উপস্থিত ছিলেন। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন চলবে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত।