কূটনৈতিক প্রতিবেদক
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি পদপ্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, নির্বাচিত হলে আমি কোনো পরে নয়, সবার জন্য সমানভাবে গ্রহণযোগ্য একজন নিরপে ও নিবেদিত প্রাণ সভাপতি হবো। জাতিসঙ্ঘ সনদ সমুন্নত রাখা, ছোট দেশগুলোর কণ্ঠস্বর জোরদার করা এবং বৈশ্বিক মতপার্থক্যের মধ্যেও ঐকমত্য গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান ল্য।
নিউ ইয়র্ক স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনানুষ্ঠানিক সংলাপে খলিলুর রহমান এ কথা জানান। আগামী ২ জুন সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচন হবে। এ পদে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছে সাইপ্রাস। নির্বাচিত প্রার্থী ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন, যা শুরু হবে ৮ সেপ্টেম্বর।
বৈশ্বিক আস্থার সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের ছয়টি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। এগুলো হলো, শান্তিরা কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নের ঘাটতি কমানো, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা, মানবাধিকার সুরা, উদীয়মান প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থাপনা এবং বহুপীয় ব্যবস্থার সংস্কার।
জাতিসঙ্ঘ শান্তিরায় বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই লাখের বেশি শান্তিরীর অভিজ্ঞতা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। শান্তিরা মিশনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, বেসামরিক সুরা এবং রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন।
এসডিজি নিয়ে কঠোর বাস্তবতার কথা তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, অর্থায়নের ঘাটতি ও জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা যদি মোকাবেলা না করা যায়, তবে বিশ্বে ‘উন্নয়নের হারানো দশক’ তৈরি হতে পারে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি), ভূমিবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ (এলএলডিসি), উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র (সিডস) এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোর বিশেষ প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে বৈশ্বিক উন্নয়ন কাঠামোকে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে। জলবায়ু ইস্যুতে খলিলুর রহমান উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন, ক্ষতিপূরণ তহবিলকে কার্যকর করা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সমুদ্র ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য রার আহ্বান জানান।
মানবাধিকার ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকলে সুরা কার্যকর হয় না বলে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১২ লাখ মানুষকে আশ্রয় দেয়ার বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে সতর্ক অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিগ ডেটার েেত্র ন্যায়সঙ্গত ও বিচণ বৈশ্বিক শাসনকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের বিশ্বের এখন আরো কার্যকর ও সংবেদনশীল বহুপীয়তা প্রয়োজন। একসাথে কাজ করার মাধ্যমে আমরা এমন একটি শক্তিশালী বহুপীয় ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি, যা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থা অর্জন করবে এবং সবার জন্য বাস্তব সুফল বয়ে আনবে। তিনি বলেন, এই সামগ্রিক ল্যকে এগিয়ে নিতে সাধারণ পরিষদকে কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বদানের সমতার সমন্বয় আমার রয়েছে।
জাতিসঙ্ঘে খলিলুর রহমানের ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে এবং নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সচিবালয় ও জেনেভায় বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের সম্মেলনে (আঙ্কর্ড) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত বছরগুলোতে তিনি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ১৬টি অধিবেশনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।



